স্মরণ কথা-
নাঈম হোসেন ৷
Freelancing কোর্স করতে এসে খুবই ভালো লাগছিলো ৷ চোখের পলকেই যেন সময়টা শেষ হয়ে গেলো ৷পরীক্ষা দিয়েছিলাম ব্যাচের সবাই সাকসেস হয়েছি ! আলহামদুলিল্লাহ ৷ সবাই চলে গেছে ৷
সারাদিন মনটা বিষম খারাপ লাগছিলো ৷ ৭ নং pc তে পরীক্ষা দিয়েছিলাম ৷ অনেক্ষণ সেখানে চুপচাপ বসে ছিলাম ! জীবনের শেষ পরীক্ষা হবে হয়তো তাই অনেকটা মায়া হয়েছিলো pc টার প্রতি ৷
একটা গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ চোখ থেকে সহসা অশ্রু নির্গত হচ্ছিলো ৷ সামনে আমাদের ব্যাচের মিজান ভাই বসা ছিলো খেয়াল ছিলো না ৷
কী একটা বিষয় নিয়ে গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ হ্যাঁ মনে পড়েছে ৷ অতীত স্মৃতি ! শৈশব কল্পনায় প্রবেশ করেছিলাম ৷ মিজান ভাই ব্যাপারটা কিছুটা উপলব্ধি করেছিলো দেখতে পাইনি ৷ ভাবছিলাম কেউ নেই অজর ধারায় কান্না আসছিলো কেন তা জানিনে ৷ হ্যাঁ মনে পরেছে ৷ একাধিক প্রতিষ্ঠানে পড়েছিলাম কারণ এক প্রতিষ্ঠানে একটা ক্লাসের বেশী পড়তে কখনো মন বসতোনা ৷ জীবনে অনেক গুলো ক্লাস পার করে শিক্ষা জীবনের ইতি টেনেছিলাম সেই ২০১০ সালে ৷
কিন্তু এখনও মনে হচ্ছেনা যে , আমি শিক্ষা জীবন থেকে দূরে আছি ৷ স্যারদের রাগাতে বেশ পছন্দ করতাম আর বোকামির ভান ধরাটা হচ্ছে আমার একটা শৈশব মুদ্রাদোষ ৷ যাহোক , সামনে বেশী বাড়াবনা , সংক্ষেপে ইতি-রেখায় প্রবেশ করতে চাই ৷
স্যারদের প্রতি যথেষ্ট ভক্তি করতাম ৷ কিন্তু বোকামির ভানের কারণে হয়তো অনেক স্যার আমাকে ভুল বুঝে উল্টো দৃষ্টিতে দেখতো ৷
যাহোক , অনেকটা বছর পর Freelancing কোর্সটা খুব ভালো লাগছিলো ৷ ভাবতেও পারিনি এতো তাড়াতাড়ি কোর্সের সময়টা শেষ হয়ে যাবে ৷ তবে হ্যাঁ সত্যি কথাটা বলতে ভুলেই গিয়েছলাম ৷
freelancing কোর্সে এসে শৈশব শিক্ষার বিপরীত কিছু স্যারদের পেলাম ৷ এখানকার স্যারদের দেখে মনে হলো , তাঁরা আমাদের শুধু একজন শিক্ষাগুরুই নন৷ তাঁরা আমাদের জীবন চলার পাথেয় ও একজন ভালো গাইড লাইন এবং অভিভাবক-ও বটে ৷
রোজ সকাল হলেই ইচ্ছা করবে ট্রেনিং সেন্টারে যেতে- কিন্তু আমাদের কোর্সতো শেষ, আর কি যেতে পারব ? বা, যাওয়াটা কি ঠিক হবে ? বিখ্যাত কবিদের সেই বিখ্যাত লেখাগুলো তখন হঠাত্ মনে পড়তেই হাউমাউ করে কান্না আসছিলো ৷
যেতে নাহি দিবো হায় !
তবুও যেতে দিতে হয় ৷
তবু তারা চলে যায় ৷
তবুও যেতে দিতে হয় ৷
তবু তারা চলে যায় ৷
সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুপ পাল্টায়৷
ব্যচের মিজান ভাই ,
নোমান ভাই,
রাফি ভাই ৷
আব্দুর রহীম ভাই !
কলন ভাই !
এবং পরের ব্যচের -
তানবীর ভাই ,
তাওহীত ভাই ,
কমল ভাই,
ওমর ফারুক ভাই ৷
মেহরাব হোসেন স্বপনীল ভাই !
ঝিকো রায়হান ভাই !
যাদেরকে আমি সবসময় একাধীকবার এটা-সেটা জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করতাম ৷ কারণ css , navigation, slider cod গুলো একটু কম বুঝতাম তাই! তবে কেউ বিরক্ত হতোনা ৷ সবাই খুবই হেল্পফুল ছিলো ৷ সবাইকেই অনেক অনেক মিস করব৷ এদের মতো ভালো ক্লাসমেটদেরকে, শিক্ষা জীবন থেকে অনেক ক্লাসমেট হারিয়েছি ৷
তবে আমাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ ব্যচের সবাই খুবই মেধাবী এবং ভালো students. ও সবাই পরস্পর হেল্পফুল ৷ আর সবাই আমাকে মামা -মামা বলে অনেক মজা করে ডাকত ৷ কারণ , স্যারদের ভাগিনা ছিলাম আমি সেই সুবাধে ৷
আর যে যে দৃষ্টিতেই দেখুকনা কেন , আমি কখনও , কারও প্রতি মাইন করিনি ৷ কয়েকটা মাস , এই সাময়িক স্বল্প সময়ে সবার ব্যবহারে সত্যিই আমি অনেক অনেক মুগ্ধ শিক্ষা জীবনের শেষ ক্লাসটা - ১-১১-২০১৮ হয়তো এটাই হবে ৷
হয়তো, কারও সাথে আর দেখা বেশী হবেনা ! কিন্তু স্মৃতিগুলো সারাজীবন অমর হয়ে থাকবে ৷ ইন্টার মিডিয়েটে পড়ার সময় এরকম কয়েজনকে পেয়েছিলাম - মনির ভাই , জুয়েল ভাই , তাদেরকেও হারিয়েছি ! শুনেছি তারা খুবই ভালো জব করতেছেন ৷ অনেকেই কলেজের অধ্যাক্ষ্য ও প্রবাসক হয়েছেন ৷ আমার মতো হতভাগ্য কেউ হয়নি ৷ সবাইকেই হারালাম ৷
Freelancing কোর্স থেকেও হয়তো মুরাদ স্যার , রাশেদ স্যার ও ইসমাঈল স্যার , এবং ওবাইদুল স্যার, যারা দিনরাত সারাক্ষণ আমাদের ভালো একজন দক্ষ profesonal freelancher বানাতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছেন ৷
তাদেরকে কি ভাষা দিয়ে সাধুবাদ জানাতে হয় , সে আমার জানা নেই ৷ আমি কোনো সুপার স্টার লেখক নই ৷ তবু বলছি, তাদের এই ঋণ কখনই শোধ করার নয় ৷ সকল অবিধান তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও , এই মহান অভিভাবকদেরকে সাধুবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পেলুমনা ৷ তবে হয়তো আমার এই শিক্ষা জীবেনর শেষ কোর্সের শিক্ষাগুরুগণ সবাই ইতিহাসে চির অমর থাকবেন ৷
একদিন হঠাত্ এভাবে সবাইকে পর করে আল্লাহ্র ডাকে সারা দিয়ে সবাইকেই চলে যেতে হবে ৷ দুনিয়ার মোহ এসবই হচ্ছে মায়ার বন্ধন বৈ আর কী ?
একদিন হঠাত্ এভাবে সবাইকে পর করে আল্লাহ্র ডাকে সারা দিয়ে সবাইকেই চলে যেতে হবে ৷ দুনিয়ার মোহ এসবই হচ্ছে মায়ার বন্ধন বৈ আর কী ?
লেখকের লেখা আরও পড়ুনঃ
1 টি মন্তব্য:
চমৎকার মনের ভাব প্রকাশ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন