সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ,
ইসলাম পুরোপুরি করছে বারণ।
মুসলিম মোরা যদি চাই ধর্মীয় জীবন-যাপন,
সত্যের বৈ নেই কিছু মিথ্যা করব বিতাড়ন।
যারা সত্যের বিপরীতে মিথ্যা প্রচার করছে।
তাদের সম্পর্কে সুরা আনকাবূত তিন ও চার অহীতে আছে,
আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন সত্যবাদীদেরকে।
নিশ্চয়ই জেনে নিবেন মিথ্যুকদেরকে।
যারা মন্দ কাজ করছে,
তারা নিজেদেরকে কি মনে করছে ?
তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে?
তাদের ফায়ছালা খুবই মন্দ’ হবে।
মায়েদাহ একশত আয়াতে আল্লাহ বলেন ;
হে নবী লোকদেরকে বলেদিন!
অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়।
যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্যে বিস্মিত হয়।
হে বুদ্ধিমানগণ! আল্লাহকে ভয় পাও।
যদি তোমরা মুক্তি চাও?
আয়াত বাষট্টি সূরা আলে ইমরান।
‘নিঃসন্দেহে এটাই হ’ল সত্য ভাষণ।
এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই।
তিনিই পরাক্রমশালী মহাপ্রাজ্ঞ জেনে নাও সবাই ।
অন্যত্র মহান আল্লাহ ফরমান;
এটাই প্রমাণ যে আল্লাহই সত্য।
আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের পূজা করে সব অসত্য ।
আল্লাহ সর্বোচ্চ মহান।
ওহীনামা ত্রিশ সূরা লোক্বমান।
একই ভাবার্থে পুনরায় আল্লাহ সূরা হজ্জ ওহী বাষট্টিতে ফরমান;
আল্লাহই সত্য।
তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য।
আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।
আয়াত তেত্রিশ সূরা যুমার আল্লাহ বলেছে;
যারা সত্য নিয়ে আগমন করেছে,
এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে,
তারাই তো আল্লাহভীরু।
তাদের দেখে ঈমান হয় জাগ্রত! হয় অশ্রুনীর।
সত্যের অনুকূলে মহান আল্লাহ আরও বলেন,
স্বীয় নির্দেশে আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন।
যদিও পাপীদের তা মনঃপূত নয়।
সূরা ইউনুস বিরাশি ওহীতে আল্লাহ একথা কয়।
সূরা আন‘আম একুশ আয়াতে পাবে;
যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিবে,
অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলবে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে হবে ? নিশ্চয়ই যালেমরা সফলকাম নহি হবে।
আল ইমরান চুরানব্বই আয়াতে আল্লাহ বলেছে ,
অতঃপর যারাই আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরপ করেছে,
তারাই যালেম, সীমালংঘনকারী হয়েছে।
সূরা আনকাবূত আটষট্টি ও উনসত্তর আয়াত বলে,
যে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে,
অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে চলে,
তার স্মরণ করা উচিত নয় কী?
যে জাহান্নামই সে সব কাফেরের আশ্রয়স্থল হবে।
আর যারা তাঁর পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে ,
আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে তাঁর পথে পরিচালিত করবে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গী হবে।
সূরা মুমিনূন আয়াত চুয়াল্লিশ আল্লাহ ঘোষণা করেছে;
আমি একাদিক্রমে রাসূল প্রেরণ করেছি।
যখনই কোন উম্মতের কাছে,
তাঁর রাসূল আগমন করেছে,
তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
অতঃপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি।
এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি।
সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা’
আল্লাহ সম্পর্কে বানোয়াট রটনা করছে যারা।
সূরা আন‘আম উনপঞ্চাশ নং আয়াতে রবের ঘোষণা জেনে নিবে;
আল্লাহ বলেন, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলবে,
তাদেরকে তাদের নাফারমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।
মিথ্যাবাদীদের সন্বোধন করে আল্লাহ বলেন,
‘হ্যাঁ, তোমার কাছে আমার নির্দেশ এসেছিলে।
অতঃপর তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে,
অহংকার করেছিলে
এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলে।
যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে,
ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুখ কালো দেখবে।
অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নাম হবে।
সূরা যুমার উনষাট ও ষাট আয়াতে একথাগুলো পাবেন।
একই বিষয়ে পুনরায় বর্ণিত হয়েছে,
নিশ্চয়ই যারা কুরআন আসার পর তা অস্বীকার করছে,
তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে।
এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ।
যা সকলে মেনে নিতে পারেন নিঃসন্দেহ।
এতে মিথ্যার প্রভাব নেই,
সামনের দিক থেকেও নেই
পিছন দিক থেকেও নেই।
এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
যা অনুসরণ করে জীবন হবে সবার ধন্য।
আল্লাহ তাঁর নবীকে আরও বলেন ;
হে নবী! ওরা যাকিছু বলছে আপনাকে,
তা বলা হ’ত পূর্ববর্তী রাসূলগণকে।
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা
রয়েছে
এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও রয়েছে।
সূরা হা-মীম-সাজদাহ একচল্লিশ ও তেতাল্লিশে একথা ঘোষণা দেন।
মিথ্যাবাদীদের উদ্দেশ্যে করে,
আল্লাহ সূরা আন‘আম ১১৫-১১৬ আয়াতে ঘোষণা করে;
হে নবী! আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও মানানসই।
তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নই।
শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী একমাত্র আল্লাহই।
আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন,
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দিবেন।
তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে
এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা রটনা করে।
সূরা ইউনুস একশত আট আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে-
হে মানবকূল! সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে।
এখন যে কেউ সত্য পথে আসে সে পথপ্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য।
যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য।
হে নবী! আপনি বলুন, যে আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
অতএব সৎপথে চলো, সৎকর্ম করো ও পড়ো আল কোরআন বই।
হে মানব জাতি! শোন; সূরা বাক্বারাহ আয়াত বিয়াল্লিশ এর ঘোষণা!
তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না।
আর জানা সত্ত্বেও সত্যকে গোপন করো না।
সূরা তওবাহ একশত ঊনিশ আয়াতে আল্লাহ করেন ঘোষণা;
ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক
এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।
সূরা বনী ইসরাঈল একশত পাঁচ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি বলেছি;
আমি সত্যসহ এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি
এবং সত্যসহই এটা অবতীর্ণ হয়েছে।
আমার দোস্ত মোহাম্মদ তা সবার কাছে প্রচার করছে।
আমি তো আমার নবীকে শুধু সুসংবাদদাতা করে পাঠিয়েছি।
এবং ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি।
মহান আল্লাহ সূরা আ'রাফ আয়াত নং একশত উনআশিতে বলেন;
আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ।
তাদের বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে,
তারা সবকিছু বোধগম্য নয়তো বেহুঁশ।
তাদের অন্তর রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা বিবেচনা করে না।
তাদের চোখ রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখে না।
তাদের কান রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না।
তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত,
বরং তাদের চেয়েও ঘৃণিত।
তারাই হ’ল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।
একই বিষয়ে সূরা সাজদা আয়াত নং তেরো আল্লাহ বলেন,
আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য,
আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।
সূরা রূম ষাট নং আয়াতে আল্লাহ তাঁর নবীকে বলেন ,
আপনি ছবর করুন!
আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।
আপনি অটুট থাকবেন আল্লাহর তরে।
সূরা বাক্বারাহ একশত সাতচল্লিশ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেন ;
বাস্তব সত্য সেটাই যা আপনার পালনকর্তা বলেন।
কাজেই আপনি সন্দিহান হবেন না।
সূরা লোক্বমান তেত্রিশ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর।
এবং এমন এক দিবসকে ভয় কর,
যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না।
এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
অতএব পার্থিব জীবন যেন,
তোমাদেরকে ধোঁকা দেয় না।
এবং আল্লাহ সম্পর্কে শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রতারিত করে না।
এসো সবে সত্যের জন্য করি লড়াই, মিথ্যা করি বর্জন।
নীতি নৈতিকতা না বিকিয়ে করি সমর্থন।
সত্যের সঙ্গে মিথ্যা না করি সংমিশ্রণ।
আল্লাহকে ভয় করি, পরকালের জন্য করি নেকী অর্জন।
সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ১৯ জুলাই ২০২২ইং রোজ মঙ্গলবার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷