শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

তারিখ: 07/02/2022

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

নাঈম হোসেন 
মাতৃত্বকালীন ছুটি এক বছর চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি।
নাঈম হোসেন, 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, 
                       আমার সালাম নিবেন। আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমার নাম মোঃ নাঈম হোসেন । আমার ঠিকানাঃ গ্রাম, পোষ্ট চরবংশী, ওয়ার্ডনং-৭, ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন, ডাকঘর: চরবংশী খাসের হাট,  উপজেলাঃ রায়পুর, জেলাঃ লক্ষ্মীপুর, আমার মোবাইল নং০১৭২৬১০২৭১৫ আপনি কেমন আছেন? আশা করি, মহান দয়াময়ের অশেষ কৃপায় খুব ভালো আছেন! আমিও আপনার মত, মমতায়ী একজন মাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে অনেক খুশি এবং ভালো আছি।
পরসমাচার, 
                  মা আপনি অবগত আছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,  নারীদেরকে অনেক বেশী ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন। 
আপনি আরও জেনে অবাক হবেন যে, ইসলামের মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ‘নিসা’ অর্থাৎ ‘মহিলা’ শব্দটি ৫৭ বার এবং ‘ইমরাআহ’ অর্থাৎ ‘নারী’ শব্দটির ২৬ বার উল্লেখ হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ‘নিসা’ তথা ‘মহিলা’ শিরোনামে নারীর অধিকার ও কর্তব্যসংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র বৃহৎ সূরাও রয়েছে। এ ছাড়া কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও তাদের মূল্যায়ন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। দিয়েছে নারীর জান-মালের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান।

আমাদের প্রিয় নবী (সঃ)ও, নারীদেরকে অনেক সম্মান ও মর্যাদা করতেন। নারীদের সম্মান বাড়িয়ে দিতে  মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন, ‘যার রয়েছে কন্যাসন্তান, সে যদি তাকে (শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে) অবজ্ঞা ও অবহেলা না করে এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য না দেয়; আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা নারীদের উত্তম উপদেশ দাও (উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করো)।’ হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ইলম শিক্ষা করা (জ্ঞানার্জন করা) প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রতি ফরজ (কর্তব্য)।’ (উম্মুস সহিহাঈন-ইবনে মাজাহ শরিফ)। ইসলাম নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বুখারি)। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। 

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। স্ত্রীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী সৌভাগ্যের পরিচায়ক।’ (মুসলিম শরিফ)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে–ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি)। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াত: ১৯)। কোরআনে আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে পুরুষের, তেমনি রয়েছে পুরুষের ওপর নারীর অধিকার।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত ২২৮)। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                              আপনিও একজন মা। আপনি সমগ্র বাঙ্গালিদের মা। আপনি অতুলনীয়!  আপনি মহিয়সী! আমি আপনার একজন সন্তান হিসেবে, বাংলার সমগ্র মায়েদের কথা ভেবে আপনার কাছে একটা ছোট আবদার করতে চাই। আমার এ দাবি সমস্ত মায়েদের পক্ষে। 
মা আপনি নিশ্চয়ই জানেন ; একজন গর্ভধারী মায়ের , সন্তান গর্ভে আসা থেকে শুরু করে , সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত মাকে কতটা কষ্টের মহাসমুদ্র পার করতে হয়।
কষ্টের পর কষ্ট,একাধিক তীব্র যন্ত্রণা একজন  মাকে সহ‍্য করতে হয়। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                            আপনি আরও জেনে অবাক  হবেন যে, ডাক্তারী তথ্য মতে , নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হল গর্ভাবস্থা। শুধু মা নয়, তার শিশুর জীবন কীভাবে গড়ে উঠবে তা অনেকটাই  নির্ভর করে এ সময়ের ওপর। সৃষ্ট জগতের সবচাইতে অসাধারণ প্রক্রিয়া বোধহয় গর্ভধারণের মাধ্যমে একজন মানুষের সৃষ্টি। একটি মানব শিশুর জন্ম। ছোট একটি কোষ থেকে এক বিন্দু রক্ত কণিকা - তারপর গঠন হয় ছোট নরম তুলতুলে এক অপরূপ মানবশিশু। একজন মহিলার গর্ভধারণ থেকে শিশুজন্মের মাঝে মোট সময় মোটামুটি ৪০ সপ্তাহ। সর্বশেষ স্বাভাবিক মাসিক (মেনসচুরাল পিরিয়ড) থেকে সাধারণত সময়টি গননা করা হয়। দিনের হিসেবে বলা যেতে পারে ২৫০ থেকে ২৮৫ দিন । মোট সময়কালকে তিনটি ট্রাইমেস্টারে ভাগ করা হয়; প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়  ট্রাইমেস্টার । গর্ভধারনের ১ম থেকে ১৩ সপ্তাহকে ধরা হয়  প্রথম ট্রাইমেস্টার। দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার ১৪ থেকে ২৬ সপ্তাহ এবং তৃতীয় বা শেষ ট্রাইমেস্টার। ২৭ সপ্তাহ থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কাল। এ তিনটি ট্রাইমেস্টারই  একজন মাকে পার করতে হয় নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে, যা একজন গর্ভবতী মায়ের পক্ষে অসহনীয় যাতনার ও বেদনার। 

এই বেদনা আমাদের মতো অনেক পাষণ্ড পুরুষেরা বুঝেনা ও বুঝতে চেষ্টাও করে না ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                            একজন মা গর্ভকালীন  সময়ে ৩টি ট্রাইমেস্টারে  যেসকল সমস্যার মোকাবেলা করেন তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা সকলের অবগতির জন্য তুলে ধরলাম আপনার কাছে এই চিঠিতে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                             একজন মায়ের গর্ভাবস্থার প্রথম ট্রাইমেস্টারে যেসকল উপসর্গ দেখা দেয় তা হলো - ক্লান্তিবোধ, কোমরে এবং মেরুদণ্ডে ব‍্যাথা, রাতের বেলায় ভালো ঘুম না হওয়া, মুডসুইং কিংবা গর্ভধারণের লক্ষণগুলো নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। আবার কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা Anxiety কিংবা গর্ভকালীন হতাশা লক্ষ্য করা যায়। ফলে ঘন ঘন প্রসাবের বেগ হয়। তাছাড়া বমি বমি ভাব বা মর্নিংসিকনেস হয়। আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে দেখেছি, প্রথম তিন মাসে এতোটা বমি করেছে যে, বমি করতে করতে কখনও সে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থা নিয়ে একজন চাকরীজীবি  মায়ের জন্য অফিস করা সম্ভব হবে কী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আর ডাক্তারও এসময় অনেক 
সাবধানে থাকতে বলেন। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!                      
                         আমাদের দেশে বর্তমান সংসদে আপনিসহ মোট  চারজন মা অনন্য মন্ত্রীর পদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী  হিসেবে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি। ডা. দীপু মণি  শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। 
বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। 
বেগম হাবিবুন নাহার উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
আর বিদায়ী মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বেগম মেহের আফরোজ চুমকি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে তারানা হালিম দায়িত্ব পালন করেছেন। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                      আপনারা মা হয়ে কী একজন গর্ভবতী মায়ের কষ্ট কে উপলব্দি করবেননা?  একজন মা কি এতটুকু ইহসান পাওয়ার অধিকারী নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? এটা কি নারীদের অধিকার নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                           আমি সমস্ত মায়েদের উপরে উল্লেখিত সকল সমস্যার কথা বিশেষ বিবেচনা করে, সরকারি আধা সরকারি চাকরি জীবি সকল মায়েদের পক্ষ হয়ে আপনার কাছে এই আবদার করছি, চাকরিরত সকল মায়েদের মাতৃত্বকালীণ ছুটি ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করে দেওয়া হলে গর্ভকালীন নানা সমস্যায় তারা নিজ নিজ ঘরে বিশ্রামে থাকতে পারবে। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                            হে আমার প্রিয় মা! আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে খুব বেশী ভালোবাসি! আমি আমার স্ত্রীর কান্না দেখেছি! অসুস্থতা নিয়ে অফিস করা কতটা কষ্টের সেটা আমি উপলব্দি করেছি আমার প্রিয়তমার চোখের পানির মধ্যে। অফিস করা,অফিস আদেশ মেনে চলা এবং নিয়মকানুন রক্ষা করতে গিয়ে আমাদের দুটো সন্তান আমরা হারিয়েছি। আমার সহধর্মিণী শোকে প্রায় মানসিক রোগী । 

দ্বিতীয় আবার একটা সন্তানের জনক হতে পারব কিনা সেটাও ভাগ্য বিধাতা জানে?আর যেন কোন মাকে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে অফিস করে সন্তান না হারাতে হয়, সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার এ চিরুকুট। আর আমি পৃথিবীর সকল নারীদেরকে অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। একটা দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। তাই  প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মূহুর্ত, এই স্লোগান কে সামনে রেখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, উপরে বর্ণিত সকল সমস্যা ও নারীর মর্যাদা এবং অধিকারের কথা বিশেষ বিবেচনা করে, যাতে সকল চাকরিজীবি মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি এক বছর পায় তার জন্য বঙ্গমাতা হিসেবে আপনার কাছে আকুল আবেদন রইল। 
পরিশেষে আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করছি। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                        আমি আশা করি আপনার একজন সন্তান হিসেবে আমি আমার পত্রের উত্তর পাবো। আল্লাহ হাফেজ।
          সমাপ্ত ৷৷

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷

রবিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৮

কবিতা শুদ্ধাচার লেখক নাঈম হোসেন

শুদ্ধাচার

নাঈম হোসেন 

ধর্মীয় বিধান মতে সেই বারো বছরে সাবালক হয়েছি।
তারপর থেকে প্রয়োজন-অপ্রয়োজন কত হেল-দোল জীবন কাটিয়েছি।
ছাত্র জীবনের পড়াশুনা শেষে চাকুরীর পিছু ছুটেছি।
চাকুরী হোক আর না হোক কর্মজীবনে ছুটেছি।

তারপর বিবাহ বন্ধনে বউয়ের প্রণয় চেয়েছি।
কি চেয়েছি? কী পেয়েছি? 
যা কভু চাইনি হয়ত বেমক্কা তা পেয়েছি।
কিন্তু আমার উপর অর্পিত কর্তব্য বেমালুম ভুলে গেছি।

আমার উপর অর্পিত কর্তব্য কী? 
কোরআন -হাদীসের সেই আজ্ঞা ছুঁয়েও দেখিনি।
কেউ উপদেশ দিলেও তাকে দিয়েছি ধমকানি।
অলস জীবনে কোরআন-হাদীস পড়িনি,
ধর্মীয় শিক্ষা পাইনি, 
রোজা-নামাজ পড়িনি।
শুধু অর্থের পিছু ছুটেছি,
কখনও আত্মকথা ভাবিনি,
আত্মশুদ্ধি চাইনি,

যা চেয়েছি,
যা পেয়েছি, 
সব মিছে মায়া! 
মাটিতে বিলীন হবে কায়া ! 

কিছুই হবেনা পরপারের সাথী।
কবর হবে আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল, ঘুটফুটে অন্ধকার সেথায় থাকবে না বাতি।
সেদিন থাকবে শুধু ঈমানের জ‍্যোতি।
ফিরে এসো সবে আর না করি কেহ পাপাচার, আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে চাই শুদ্ধাচার।
                  সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ৩ জুলাই ২০২২ইং রোজ রবিবার৷

কবিতা নীরবকান্না লেখক নাঈম হোসেন

নীরবকান্না 

নাঈম হোসেন 

দ্রব‍্য মূল্য দফায় দফায় বাড়ছে
তাই মানুষ নীরবে কাঁদছে।
মধ্যবিত্ত গরীব সবাই হাহাকার করছে
কী খাবে কী করবে নির্জনে ভাবছে?

তেল থেকে নুন 
সবকিছুতে আগুন 
গ‍্যাসের দামও বৃদ্ধি কয়েকগুণ
মরার উপর খাড়ার পা কষ্ট দ্বিগুণ।

গরিবের মাথায় হাত 
পেটে জুটেনা ভাত
ধনীদের আয়েশ তবু স্বর্ণ, রৌপ্য, হিরক, পান্না।
মধ্যবিত্ত করছে হায় হায়, নীরব কান্না।

সইতে না পেরে কেউ সরকারকে দেয় গালি
তা দেখে চামচারদল দেয় হাততালি।
তেল, চাউল সবকিছু গুদামে মজুদ আছে।
অধিক লাভের জন্য ব‍িক্রেতা কৃত্রিম সংকট করছে।

প্রশাসন অভিযান দিয়ে সিন্ডিকেট চক্র ধরছে 
ক্রেতাদের কাছে 
সরকার দাম বাড়াইছে 
এমন মিথ্যা বানোয়াট রটনা করছে।

সিন্ডিকেট চক্রের নির্মূল চাই 
নীরব কান্না আর না
গরীব মোরা বাঁচতে চাই 
অপরাধীদের ছাড় না।
           সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ১২ মার্চ ২০২২ইং
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

কবিতা সংমিশ্রণ লেখক নাঈম হোসেন

 

সংমিশ্রণ 
নাঈম হোসেন 

সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ,
ইসলাম পুরোপুরি করছে বারণ।
মুসলিম মোরা যদি চাই ধর্মীয় জীবন-যাপন, 
সত্যের বৈ নেই কিছু মিথ্যা করব বিতাড়ন।

যারা সত্যের বিপরীতে মিথ্যা প্রচার করছে। 
তাদের সম্পর্কে সুরা আনকাবূত তিন ও চার অহীতে আছে,
আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন সত্যবাদীদেরকে।
নিশ্চয়ই জেনে নিবেন মিথ্যুকদেরকে। 

যারা মন্দ কাজ করছে, 
তারা নিজেদেরকে কি মনে করছে ?
তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে?
তাদের ফায়ছালা খুবই মন্দ’ হবে।

মায়েদাহ একশত আয়াতে আল্লাহ বলেন ;
হে নবী লোকদেরকে বলেদিন!
অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়।
যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্যে বিস্মিত হয়।
হে বুদ্ধিমানগণ! আল্লাহকে ভয় পাও। 
যদি তোমরা মুক্তি চাও?

আয়াত বাষট্টি সূরা আলে ইমরান।
‘নিঃসন্দেহে এটাই হ’ল সত্য ভাষণ।
এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই।
তিনিই পরাক্রমশালী মহাপ্রাজ্ঞ জেনে নাও সবাই ।

অন্যত্র মহান আল্লাহ ফরমান;
এটাই প্রমাণ যে আল্লাহই সত্য।
আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের পূজা করে সব অসত্য ।
আল্লাহ সর্বোচ্চ মহান।
ওহীনামা ত্রিশ সূরা লোক্বমান।

একই ভাবার্থে পুনরায় আল্লাহ সূরা হজ্জ ওহী বাষট্টিতে ফরমান;
আল্লাহই সত্য।
তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য। 
আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।

আয়াত তেত্রিশ সূরা যুমার আল্লাহ বলেছে;
যারা সত্য নিয়ে আগমন করেছে,
এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে,
তারাই তো আল্লাহভীরু।
তাদের দেখে ঈমান হয় জাগ্রত! হয় অশ্রুনীর।

সত্যের অনুকূলে মহান আল্লাহ আরও বলেন,
স্বীয় নির্দেশে আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন।
যদিও পাপীদের তা মনঃপূত নয়।
সূরা ইউনুস বিরাশি ওহীতে আল্লাহ একথা  কয়।

সূরা আন‘আম একুশ আয়াতে পাবে;
যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিবে,
অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলবে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে হবে ? নিশ্চয়ই যালেমরা সফলকাম নহি হবে।

আল ইমরান চুরানব্বই আয়াতে আল্লাহ বলেছে ,
অতঃপর যারাই আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরপ করেছে,
তারাই যালেম, সীমালংঘনকারী হয়েছে।

সূরা আনকাবূত আটষট্টি ও উনসত্তর আয়াত বলে,
যে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে,
অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে চলে,
তার স্মরণ করা উচিত নয় কী?
যে জাহান্নামই সে সব কাফেরের আশ্রয়স্থল হবে।
আর যারা তাঁর পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে ,
আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে তাঁর পথে পরিচালিত করবে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গী হবে। 

সূরা মুমিনূন আয়াত চুয়াল্লিশ আল্লাহ ঘোষণা করেছে;
আমি একাদিক্রমে রাসূল প্রেরণ করেছি।
যখনই কোন উম্মতের কাছে,
তাঁর রাসূল আগমন করেছে,
তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
অতঃপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি।
এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি।
সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা’ 
আল্লাহ সম্পর্কে বানোয়াট রটনা করছে যারা।

সূরা আন‘আম উনপঞ্চাশ নং আয়াতে রবের ঘোষণা জেনে নিবে;
আল্লাহ বলেন, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে  মিথ্যা বলবে, 
তাদেরকে তাদের নাফারমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।

মিথ্যাবাদীদের সন্বোধন করে আল্লাহ বলেন,
‘হ্যাঁ, তোমার কাছে আমার নির্দেশ এসেছিলে।
অতঃপর তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে,
অহংকার করেছিলে 
এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলে।
যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে,
ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুখ কালো দেখবে।
অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নাম হবে।
সূরা যুমার উনষাট ও ষাট আয়াতে একথাগুলো পাবেন।
একই বিষয়ে পুনরায় বর্ণিত হয়েছে,
নিশ্চয়ই যারা কুরআন আসার পর তা অস্বীকার করছে,
তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে।
এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ। 
যা সকলে মেনে নিতে পারেন নিঃসন্দেহ।
এতে মিথ্যার প্রভাব নেই,
সামনের দিক থেকেও নেই 
পিছন দিক থেকেও নেই। 
এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
যা অনুসরণ করে জীবন হবে সবার ধন‍্য।

আল্লাহ তাঁর নবীকে আরও বলেন ;
হে নবী! ওরা যাকিছু বলছে আপনাকে,
তা বলা হ’ত পূর্ববর্তী রাসূলগণকে।
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা
রয়েছে 
এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও রয়েছে।
সূরা হা-মীম-সাজদাহ একচল্লিশ ও তেতাল্লিশে একথা ঘোষণা দেন।

মিথ্যাবাদীদের উদ্দেশ্যে করে,
আল্লাহ সূরা আন‘আম ১১৫-১১৬ আয়াতে ঘোষণা করে;
হে নবী! আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও মানানসই।
তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নই।
শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী একমাত্র আল্লাহই।

আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, 
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দিবেন।
তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে
এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা রটনা করে।

সূরা ইউনুস একশত আট আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে-
হে মানবকূল! সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে।
এখন যে কেউ সত্য পথে আসে সে পথপ্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য।
যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য।
হে নবী! আপনি বলুন, যে আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
অতএব সৎপথে চলো, সৎকর্ম করো ও পড়ো আল কোরআন বই।

হে মানব জাতি! শোন; সূরা বাক্বারাহ আয়াত  বিয়াল্লিশ এর ঘোষণা!

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না।
আর জানা সত্ত্বেও সত্যকে গোপন করো না।
সূরা তওবাহ একশত ঊনিশ আয়াতে আল্লাহ করেন ঘোষণা;
ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক
এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।

সূরা বনী ইসরাঈল একশত পাঁচ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি বলেছি;
আমি সত্যসহ এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি
এবং সত্যসহই এটা অবতীর্ণ হয়েছে।
আমার দোস্ত মোহাম্মদ তা সবার কাছে প্রচার করছে।
আমি তো আমার নবীকে শুধু সুসংবাদদাতা করে পাঠিয়েছি।
এবং ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি।

মহান আল্লাহ সূরা আ'রাফ আয়াত নং একশত উনআশিতে বলেন;
আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ।
তাদের বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে,
তারা সবকিছু বোধগম্য নয়তো বেহুঁশ।
তাদের অন্তর রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা বিবেচনা করে না।
তাদের চোখ রয়েছে, 
কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখে না।
তাদের কান রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। 
তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত,
বরং তাদের চেয়েও ঘৃণিত।

তারাই হ’ল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।

একই বিষয়ে সূরা সাজদা আয়াত নং তেরো আল্লাহ বলেন,
আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য,
আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।

সূরা রূম ষাট নং আয়াতে আল্লাহ তাঁর নবীকে বলেন , 
আপনি ছবর করুন!
আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।
আপনি অটুট থাকবেন আল্লাহর তরে।

সূরা বাক্বারাহ একশত সাতচল্লিশ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেন ;
বাস্তব সত্য সেটাই যা আপনার পালনকর্তা বলেন। 
কাজেই আপনি সন্দিহান হবেন না।

সূরা লোক্বমান তেত্রিশ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর।
এবং এমন এক দিবসকে ভয় কর,
যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না।
এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
অতএব পার্থিব জীবন যেন,
তোমাদেরকে ধোঁকা দেয় না।
এবং আল্লাহ সম্পর্কে শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রতারিত করে না।

এসো সবে সত্যের জন্য করি লড়াই, মিথ্যা করি বর্জন।
নীতি নৈতিকতা না বিকিয়ে করি সমর্থন।
সত্যের সঙ্গে মিথ্যা না করি সংমিশ্রণ।
আল্লাহকে ভয় করি, পরকালের জন্য করি নেকী অর্জন।
সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ১৯ জুলাই ২০২২ইং রোজ মঙ্গলবার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

স্মরণ কথা লেখক নাঈম হোসেন

স্মরণ কথা- 

 নাঈম হোসেন  ৷ 

Freelancing কোর্স করতে এসে খুবই ভালো লাগছিলো ৷ চোখের পলকেই যেন সময়টা শেষ হয়ে গেলো ৷ 

পরীক্ষা দিয়েছিলাম ব্যাচের সবাই সাকসেস হয়েছি ! আলহামদুলিল্লাহ ৷ সবাই চলে গেছে ৷ 

সারাদিন মনটা বিষম খারাপ লাগছিলো ৷ ৭ নং pc তে পরীক্ষা দিয়েছিলাম ৷ অনেক্ষণ সেখানে চুপচাপ বসে ছিলাম ! জীবনের শেষ পরীক্ষা হবে হয়তো তাই অনেকটা মায়া হয়েছিলো pc টার প্রতি ৷ 

একটা গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ চোখ থেকে সহসা অশ্রু নির্গত হচ্ছিলো ৷ সামনে আমাদের ব্যাচের মিজান ভাই বসা ছিলো খেয়াল ছিলো না ৷ 

কী একটা বিষয় নিয়ে গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ হ্যাঁ মনে পড়েছে ৷ অতীত স্মৃতি ! শৈশব কল্পনায় প্রবেশ করেছিলাম ৷ মিজান ভাই ব্যাপারটা কিছুটা উপলব্ধি করেছিলো দেখতে পাইনি ৷ ভাবছিলাম কেউ নেই অজর ধারায় কান্না আসছিলো কেন তা জানিনে ৷ হ্যাঁ মনে পরেছে ৷ একাধিক প্রতিষ্ঠানে পড়েছিলাম কারণ এক প্রতিষ্ঠানে একটা ক্লাসের বেশী পড়তে কখনো মন বসতোনা ৷ জীবনে অনেক গুলো ক্লাস পার করে শিক্ষা জীবনের ইতি টেনেছিলাম সেই ২০১০ সালে ৷

 কিন্তু এখনও মনে হচ্ছেনা যে , আমি শিক্ষা জীবন থেকে দূরে আছি ৷ স্যারদের রাগাতে বেশ পছন্দ করতাম আর বোকামির ভান ধরাটা হচ্ছে আমার একটা শৈশব মুদ্রাদোষ ৷ যাহোক , সামনে বেশী বাড়াবনা , সংক্ষেপে ইতি-রেখায় প্রবেশ করতে চাই ৷ 

স্যারদের প্রতি যথেষ্ট ভক্তি করতাম ৷ কিন্তু বোকামির ভানের কারণে হয়তো অনেক স্যার আমাকে ভুল বুঝে উল্টো দৃষ্টিতে দেখতো ৷ 

যাহোক , অনেকটা বছর পর Freelancing কোর্সটা খুব ভালো লাগছিলো ৷ ভাবতেও পারিনি এতো তাড়াতাড়ি কোর্সের সময়টা শেষ হয়ে যাবে ৷ তবে হ্যাঁ সত্যি কথাটা বলতে ভুলেই গিয়েছলাম ৷ 

freelancing কোর্সে এসে শৈশব শিক্ষার বিপরীত কিছু স্যারদের পেলাম ৷ এখানকার স্যারদের দেখে মনে হলো , তাঁরা আমাদের শুধু একজন শিক্ষাগুরুই নন৷ তাঁরা আমাদের জীবন চলার পাথেয় ও একজন ভালো গাইড লাইন এবং অভিভাবক-ও বটে ৷

 রোজ সকাল হলেই ইচ্ছা করবে ট্রেনিং সেন্টারে যেতে- কিন্তু আমাদের কোর্সতো শেষ, আর কি যেতে পারব ? বা, যাওয়াটা কি ঠিক হবে ? বিখ্যাত কবিদের সেই বিখ্যাত লেখাগুলো তখন হঠাত্‌ মনে পড়তেই হাউমাউ করে কান্না আসছিলো ৷

যেতে নাহি দিবো হায় ! 
তবুও যেতে দিতে হয় ৷ 
তবু তারা চলে যায় ৷
সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুপ পাল্টায়৷ 

ব্যচের মিজান ভাই , 
নোমান ভাই, 
রাফি ভাই ৷ 
আব্দুর রহীম ভাই ! 
কলন ভাই ! 

এবং পরের ব্যচের -
তানবীর ভাই , 
তাওহীত ভাই ,
কমল ভাই,
ওমর ফারুক ভাই ৷ 
মেহরাব হোসেন স্বপনীল ভাই ! 
ঝিকো রায়হান ভাই ! 

যাদেরকে আমি সবসময় একাধীকবার এটা-সেটা জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করতাম ৷ কারণ css , navigation, slider cod গুলো একটু কম বুঝতাম তাই! তবে কেউ বিরক্ত হতোনা ৷ সবাই খুবই হেল্পফুল ছিলো ৷ সবাইকেই অনেক অনেক মিস করব৷ এদের মতো ভালো ক্লাসমেটদেরকে, শিক্ষা জীবন থেকে অনেক ক্লাসমেট হারিয়েছি ৷

 তবে আমাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ ব্যচের সবাই খুবই মেধাবী এবং ভালো students. ও সবাই পরস্পর হেল্পফুল ৷ আর সবাই আমাকে মামা -মামা বলে অনেক মজা করে ডাকত ৷ কারণ , স্যারদের ভাগিনা ছিলাম আমি সেই সুবাধে ৷ 

আর যে যে দৃষ্টিতেই দেখুকনা কেন , আমি কখনও , কারও প্রতি মাইন করিনি ৷ কয়েকটা মাস , এই সাময়িক স্বল্প সময়ে সবার ব্যবহারে সত্যিই আমি অনেক অনেক মুগ্ধ শিক্ষা জীবনের শেষ ক্লাসটা - ১-১১-২০১৮ হয়তো এটাই হবে ৷

 হয়তো, কারও সাথে আর দেখা বেশী হবেনা ! কিন্তু স্মৃতিগুলো সারাজীবন অমর হয়ে থাকবে ৷ ইন্টার মিডিয়েটে পড়ার সময় এরকম কয়েজনকে পেয়েছিলাম - মনির ভাই , জুয়েল ভাই , তাদেরকেও হারিয়েছি ! শুনেছি তারা খুবই ভালো জব করতেছেন ৷ অনেকেই কলেজের অধ্যাক্ষ্য ও প্রবাসক হয়েছেন ৷ আমার মতো হতভাগ্য কেউ হয়নি ৷ সবাইকেই হারালাম ৷

 Freelancing কোর্স থেকেও হয়তো মুরাদ স্যার , রাশেদ স্যার ও ইসমাঈল স্যার , এবং ওবাইদুল স্যার, যারা দিনরাত সারাক্ষণ আমাদের ভালো একজন দক্ষ profesonal freelancher বানাতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছেন ৷ 

তাদেরকে কি ভাষা দিয়ে সাধুবাদ জানাতে হয় , সে আমার জানা নেই ৷ আমি কোনো সুপার স্টার লেখক নই ৷ তবু বলছি, তাদের এই ঋণ কখনই শোধ করার নয় ৷ সকল অবিধান তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও , এই মহান অভিভাবকদেরকে সাধুবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পেলুমনা ৷ তবে হয়তো আমার এই শিক্ষা জীবেনর শেষ কোর্সের শিক্ষাগুরুগণ সবাই ইতিহাসে চির অমর থাকবেন ৷ 
একদিন হঠাত্‌ এভাবে সবাইকে পর করে আল্লাহ্‌র ডাকে সারা দিয়ে সবাইকেই চলে যেতে হবে ৷ দুনিয়ার মোহ এসবই হচ্ছে মায়ার বন্ধন বৈ আর কী ? 
লেখকের লেখা আরও পড়ুনঃ 

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮

বাণী লেখক নাঈম হোসেন

বাণী নাঈম হোসেন 

পঁইছি কেনার টাকা নেই তোর ! 
বিয়ের স্বপ্ন কেন দেখিস বর ? 

বাণী লেখক নাঈম হোসেন

বাণী লেখক নাঈম হোসেন 

মানুষ হয়েও যদি কোন মানুষের বিবদ দেখে কেউ এগিয়ে না আসে , তার ইবাদত আল্লাহ্‌ কবুল করলেও , বিপদগ্রস্থ   ব্যাক্তি কস্মিনকালেও তাকে ক্ষমা করবেনা ৷ 
বিপদগ্রস্ত অথবা মজলুমের ডাকে যারা সাড়া দেয়না তারা মানুষরূপী মুখোশধারী শয়তান ৷ তাদেরকে সদা এড়িয়ে চলাই উত্তম ৷ 

যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ লেখক নাঈম হোসেন

  যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ  লেখক নাঈম হোসেন  একজন মুসলমান অপর আরেকজন মুসলমানের ভাই৷ মহান আল্লাহ তাআলা ...