বৃহস্পতিবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২২

সূরা ইখলাসের তাফসিরসহ বাংলা অনুবাদ


সূরা ইখলাসের তাফসিরসহ বাংলা অনুবাদ 


পরম করুণাময় মেহেরবান আল্লাহর নামে

১.) বলো,১ তিনি আল্লাহ,২ একক।৩

১) এখানে ‘বলো’ শব্দে মাধ্যমে প্রথমত রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সম্বোধন করা হয়েছে। কারণ তাঁকেই প্রশ্ন করা হয়েছিল রব কে? তিনি কেমন? আবার তাঁকেই হুকুম দেয়া হয়েছিল, প্রশ্নের জবাবে আপনি একথা বলুন। কিন্তু রসূলের ﷺ তিরোধানের পর এ সম্বোধনটি প্রত্যেক মু’মিনের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে যায়। রসূলুল্লাহকে (সা.) যে কথা বলার হুকুম দেয়া হয়েছিল এখন সে কথা তাকেই বলতে হবে।

২) অর্থাৎ আমার যে রবের সাথে তোমরা পরিচিত হতে চাও তিনি আর কেউ নন, তিনি হচ্ছেন আল্লাহ। এটি প্রশ্নকারীদের প্রশ্নের প্রথম জবাব। এর অর্থ হচ্ছে, তোমাদের সামনে আমি কোন নতুন রব নিয়ে আসিনি। অন্য সব মাবুদদের ইবাদাত ত্যাগ করে কোন নতুন মাবুদের ইবাদাত করতে আমি তোমাদের বলিনি। বরং আল্লাহ‌ নামে যে সত্তার সাথে তোমরা পরিচিত তিনি সেই সত্তা। আরবদের জন্য ‘আল্লাহ’ শব্দটি কোন নতুন ও অপরিচিত শব্দ ছিল না। প্রাচীনতম কাল থেকে বিশ্ব-জাহানের স্রষ্টার প্রতিশব্দ হিসেবে তারা আল্লাহ‌ শব্দটি ব্যবহার করে আসছিল। নিজেদের অন্য কোন মাবুদ ও উপাস্য দেবতার সাথে এ শব্দটি সংশ্লিষ্ট করতো না। অন্য মাবুদদের জন্য তারা “ইলাহ” শব্দ ব্যবহার করতো। তারপর আল্লাহ‌ সম্পর্কে তাদের যে আকীদা ছিল তার চমৎকার প্রকাশ ঘটেছিল আবরাহার মক্কা আক্রমণের সময়। সে সময় কা’বা ঘরে ৩৬০টি উপাস্যের মূর্তি ছিল। কিন্তু এ বিপদ থেকে রক্ষা করার জন্য মুশরিকরা তাদের সবাইকে বাদ দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে ছিল। অর্থাৎ তারা নিজেরা ভালোভাবে জানতো, এ সংকটকালে আল্লাহ‌ ছাড়া আর কোন সত্তাই তাদেরকে সাহায্য করতে পারবে না। কা’বা ঘরকেও তারা এসব ইলাহের সাথে সম্পর্কিত করে বায়তুল আ-লিহাহ (ইলাহ--এর বহুবচন) বলতো না বরং আল্লাহর সম্পর্কিত করে একে বলতো বায়তুল্লাহ। আল্লাহ‌ সম্পর্কে আরবের মুশরিকদের আকীদা কি ছিল কুরআনের বিভিন্ন স্থানে তা বলা হয়েছে। যেমনঃ সূরা যুখরুফে বলা হয়েছেঃ “যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, কে তাদের পয়দা করেছে, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে আল্লাহ।” (৮৭ আয়াত)

সূরা আনকাবুতে বলা হয়েছেঃ “যদি এদেরকে জিজ্ঞেস করো, আকাশসমূহ ও যমীনকে কে পয়দা করেছে এবং চাঁদ ও সূর্যকে কে নিয়ন্ত্রিত করে রেখেছে, তাহলে নিশ্চয়ই তারা বলবে আল্লাহ।............আর যদি তুমি তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, কে আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করলেন এবং কার সাহায্যে মৃত পতিত জমিকে সজীবতা দান করলেন, তাহলে তারা নিশ্চয়ই বলবে আল্লাহ।” (৬১-৬৩ আয়াত)।

সূরা মু’মিনূনে বলা হয়েছেঃ “এদেরকে জিজ্ঞেস করো, বলো যদি তোমরা জানো, এ যমীন এবং এর সমস্ত জনবসতি কার? এরা অবশ্যি বলবে আল্লাহর।............এদেরকে জিজ্ঞেস করো, সাত আকাশ ও মহাআরশের মালিক কে? এরা অবশ্যি বলবে, আল্লাহ।......এদেরকে জিজ্ঞেস করো, বলো যদি তোমরা জেনে থাকো প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর কার কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত? আর কে আশ্রয় দান করেন এবং কার মোকাবিলায় কেউ আশ্রয় দিতে পারেন না? এরা নিশ্চয়ই বলবে, এ ব্যাপারটি তো একমাত্র আল্লাহরই জন্য।” (৮৪-৮৯ আয়াত)

সূরা ইউনুসে বলা হয়েছেঃ “এদেরকে জিজ্ঞেস করো কে তোমাদের আকাশ ও যমীন থেকে রিযিক দেন? তোমরা যে শ্রবণ ও দৃষ্টি ক্ষমতার অধিকারী হয়েছো এগুলো কার ইখতিয়ারভুক্ত? আর কে জীবিতকে মৃত থেকে এবং মৃতকে জীবিত থেকে বের করেন এবং কে এ বিশ্ব ব্যবস্থাপনা চালাচ্ছেন? এরা নিশ্চয়ই বলবে, আল্লাহ।” (৩১ আয়াত)

অনুরূপভাবে সূরা‌ ইউনুসের আর এক জায়গায় বলা হয়েছেঃ “যখন তোমরা জাহাজে আরোহণ করে অনুকূলে বাতাসে আনন্দ চিত্তে সফর করতে থাকো আর তারপর হঠাৎ প্রতিকূল বাতাসের বেগ বেড়ে যায়, চারদিক থেকে তরঙ্গ আঘাত করতে থাকে এবং মুসাফিররা মনে করতে থাকে, তারা চারদিকে থেকে ঝনঝা পরিবৃত হয়ে পড়েছে, তখন সবাই নিজের দ্বীনকে একমাত্র আল্লাহর জন্য নির্ধারিত করে নিয়ে তাঁরই কাছে দোয়া করতে থাকো এই বলেঃ “হে আল্লাহ‌ যদি তুমি আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার করো তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ বান্দায় পরিণত হবো। কিন্তু যখন তিনি তাদেরকে বাঁচিয়ে দেন তখন এই লোকেরাই সত্যচ্যূত হয়ে পৃথিবীতে বিদ্রোহ সৃষ্টির কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে।”

সূরা বনী ইসরাঈলে একথাটিরই পুনরাবৃত্তি এভাবে করা হয়েছেঃ “যখন সমুদ্রে তোমাদের ওপর বিপদ আসে তখন সেই একজন ছাড়া আর যাদেরকে তোমরা ডাকতে তারা সবাই হারিয়ে যায়। কিন্তু যখন তিনি তোমাদের বাঁচিয়ে স্থলভাগে পৌঁছিয়ে দেন তখন তোমরা তাঁর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও।” (৬৭ আয়াত)

এ আয়াতগুলো সামনে রেখে চিন্তা করুন, লোকেরা তাঁকে জিজ্ঞেস করলো, আপনার সেই রব কে এবং কেমন, যার ইবাদাত বন্দেগী করার জন্য আপনি আমাদের প্রতি আহবান জানাচ্ছেন? তিনি এর জবাবে বরলেনঃ তিনি আল্লাহ! এ জবাব থেকে আপনা আপনি এ অর্থ বের হয়, যাকে তোমরা নিজেরাই নিজেদের ও সারা বিশ্ব-জাহানের স্রষ্টা, প্রভু, আহারদাতা, পরিচালক ও ব্যবস্থাপক বলে মানো এবং কঠিন সংকটময় মুহূর্তে অন্য সব মাবুদদের পরিত্যাগ করে একমাত্র তাঁর কাছেই সাহায্য করার আবেদন জানাও, তিনিই আমার রব এবং তাঁরই ইবাদাত করার দিকে আমি তোমাদের আহবান জানাচ্ছি। এ জবাবের মধ্যে আল্লাহর সমস্ত পূর্ণাংগ গুণাবলী আপনা আপনি এসে পড়ে। কারণ যিনি এ বিশ্ব-জাহানের সৃষ্টিকর্তা, যিনি এর বিভিন্ন বিষয়ের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনা করেন, যিনি এর মধ্যে বসবাসকারী সমস্ত প্রাণীর আহার যোগান এবং বিপদের সময় নিজের বান্দাদের সাহায্য করেন তিনি জীবিত নন, শুনতে ও দেখতে পান না, স্বাধীন ও সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নন, সর্বজ্ঞ ও সর্বজ্ঞানী নন, করুণাময় ও স্নেহশীল নন এবং সবার ওপর প্রাধান্য বিস্তারকারী নন, একথা আদতে কল্পনাই করা যায় না।

৩) ব্যাকরণের সূত্র অনুসারে উলামায়ে কেরাম  বাক্যটির বিভিন্ন বিশ্লেষণ দিয়েছেন। কিন্তু আমাদের মতে যে বিশ্লেষণটি এখানকার সাথে পুরোপুরি খাপ খায় সেটি হচ্ছেঃ উদ্দেশ্য (Subject) আল্লাহ‌ তার বিধেয় (Predicate) এবং তার দ্বিতীয় বিধেয়। এ বিশ্লেষণের দৃষ্টিতে এ বাক্যটিতে অর্থ হচ্ছে, তিনি (যাঁর সম্পর্কে তোমরা প্রশ্ন করছো) আল্লাহ‌ একক। অন্য অর্থে এও হতে পারে এবং ভাষারীতির দিক দিয়ে এটা ভুলও নয় যে, তিনি আল্লাহ‌ এক।

সর্বপ্রথম একথাটি বুঝে নিতে হবে যে, এ বাক্যটিতে মহান আল্লাহর জন্য “আহাদ” শব্দটি যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে তা আরবী ভাষায় এ শব্দটির একটি অস্বাভাবিক ব্যবহার। সাধারণত অন্য একটি শব্দের সাথে সম্বন্ধের ভিত্তিতে এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়, যেমনঃ “সপ্তাহের প্রথম দিন।” অনুরূপভাবে “তোমাদের কোন একজনকে পাঠাও।” অথবা সাধারণ নেতিবাচক অর্থে এর ব্যবহার হয়। যেমনঃ “আমার কাছে কেউ আসেনি।” কিংবা ব্যাপকতার ধারণাসহ প্রশ্ন সূচক বাক্যে বলা হয়। যেমনঃ “তোমার কাছে কি কেউ আছে?” অথবা এ ব্যাপকতার ধারণাসহ শর্ত প্রকাশক বাক্যে এর ব্যবহার হয় যেমনঃ “যদি তোমার কাছে কেউ এসে থাকে।” অথবা গণনায় বলা হয়। যেমনঃ “এক, দুই, এগার।” এ সীমিত ব্যবহারগুলো ছাড়া কুরআন নাযিলের পূর্বে আরবী ভাষায় (আরবী--) (আহাদ) শব্দটির গুণবাচক অর্থে ব্যবহার অর্থাৎ কোন ব্যক্তি বা জিনিসের গুণ প্রকাশ অর্থে “আহাদ” শব্দের ব্যবহারের কোন নজির নেই। আর কুরআন নাযিলের পর এ শব্দটি শুধুমাত্র আল্লাহর সত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। এ অস্বাভাবিক বর্ণনা পদ্ধতি স্বতঃস্ফূর্তভাবে একথা প্রকাশ করে যে, একক ও অদ্বিতীয় হওয়া আল্লাহর বিশেষ গুণ। বিশ্ব-জাহানের কোন কিছুই এ গুণে গুণান্বিত নয়। তিনি এক ও একক, তাঁর কোন দ্বিতীয় নেই।

তারপর মুশরিক ও কুরাইশরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তাঁর রব সম্পর্কে যেসব প্রশ্ন করেছিল সেগুলো সামনে রেখে দেখুন,  বলার পর  কিভাবে তার জবাব দেয়া হয়েছেঃ

প্রথমত, এর মানে হচ্ছে, তিনি একাই রব। তাঁর ‘রবুবিয়াতে’ কারো কোন অংশ নেই। আর যেহেতু ইলাহ (মাবুদ) একমাত্র তিনিই হতে পারেন যিনি রব (মালিক ও প্রতিপালক) হন, তাই ‘উলুহীয়াতে’ও (মাবুদ হবার গুণাবলী) কেউ তাঁর সাথে শরীক নেই।

দ্বিতীয়ত, এর মানে এও হয় যে, তিনি একাই এ বিশ্ব-জাহানের স্রষ্টা। এ সৃষ্টিকর্মে কেউ তাঁর সাথে শরীক নয়। তিনি একাই সমগ্র বিশ্ব-রাজ্যের মালিক ও একচ্ছত্র অধিপতি। তিনি একাই বিশ্ব-ব্যবস্থার পরিচালক ও ব্যবস্থাপক। নিজের সমগ্র সৃষ্টি জগতের রিযিক তিনি একাই দান করেন। সংকটকালে তিনি একাই তাদের সাহায্য করেন ও ফরিয়াদ শোনেন। আল্লাহর সার্বভৌম কর্তৃত্বের এসব কাজকে তোমরা নিজেরাও আল্লাহর কাজ বলে মনে করো, এসব কাজে আর কারো সামান্যতম কোন অংশ নেই।

তৃতীয়ত, তারা একথাও জিজ্ঞেস করেছিল, তিনি কিসের তৈরি? তাঁর বংশধারা কি? তিনি কোন প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত? দুনিয়ার উত্তরাধিকার তিনি কার কাছ থেকে পেয়েছেন? এবং তারপর কে এর উত্তরাধিকারী হবে? আল্লাহ‌ তাদের এ সমস্ত প্রশ্নের জবাব একটিমাত্র “আহাদ” শব্দের মাধ্যমে দিয়েছেন। এর অর্থ হচ্ছেঃ (১) তিনি এক আল্লাহ‌ চিরকাল আছেন এবং চিরকাল থাকবেন। তাঁর আগে কেউ আল্লাহ‌ ছিল না এবং তাঁর পরেও কেউ আল্লাহ‌ হবে না। (২) আল্লাহর এমন কোন প্রজাতি নেই, যার সদস্য তিনি হতে পারেন। বরং তিনি একাই আল্লাহ‌ এবং তাঁর সমগোত্রীয় ও সমজাতীয় কেউ নেই। (৩) তাঁর সত্তা নিছক এক নয় বরং  একক, যেখানে কোন দিক দিয়ে একাধিক্যের সামান্যতম স্পর্শও নেই। তিনি বিভিন্ন উপাদানে গঠিত কোন সত্তা নন। তাঁর সত্তাকে দ্বিখণ্ডিত করা যেতে পারে না। তার কোন আকার ও রূপ নেই। তা কোন স্থানের গণ্ডীতে আবদ্ধ নয় এবং তার মধ্যে জিনিস আবদ্ধ হতে পারে না। তাঁর কোন বর্ণ নেই। কোন অংগ-প্রত্যংগ নেই। কোন দিক নেই। তাঁর মধ্যে কোন প্রকার পরিবর্তন-বিবর্তন ঘটে না। সকল প্রকার ধরন ও প্রকরণ মুক্ত ও বিবর্জিত তিনি একমাত্র সত্তা, যা সবদিক দিয়েই আহাদ বা একক। (এ পর্যায়ে একথাটি ভালোভাবে ব্যবহার করা হয় যেমনভাবে আমাদের ভাষায় আমরা “এক” শব্দটিকে ব্যবহার করে থাকি। বিপুল সংখ্যা সম্বলিত কোন সমষ্টিকেও তার সামগ্রিক সত্তাকে সামনে রেখে “ওয়াহেদ” বা “এক” বলা হয়। যেমন এক ব্যক্তি, এক জাতি, এক দেশ, এক পৃথিবী, এমন কি এক বিশ্ব-জাহানও। আবার কোন সমষ্টির প্রত্যেক অংশকেও আলাদা আলাদাভাবেও “এক”-ই বলা হয়। কিন্তু “আহাদ” বা একক শব্দটি আল্লাহ‌ ছাড়া আর কারো জন্য ব্যবহার করা হয় না। এজন্য কুরআন মজীদে যেখানেই আল্লাহর জন্য ওয়াহেদ (এক) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে সেখানেই বলা হয়েছেঃ “ইলাহুন ওয়াহেদ” এক মাবুদ বা “আল্লাহুল ওয়াহেদুল কাহহার” এক আল্লাহই সবাইকে বিজিত ও পদানত করে রাখেন। কোথাও নিছক “ওয়াহেদ” বলা হয়নি। কারণ যেসব জিনিসের মধ্যে বিপুল ও বিশাল সমষ্টি রয়েছে তাদের জন্যও এ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। বিপরীতপক্ষে আহাদ শব্দটি একমাত্র আল্লাহর জন্য ব্যবহৃত হয়েছে। কারণ আল্লাহই একমাত্র সত্তা ও অস্তিত্ব যার মধ্যে কোন প্রকার একাধিক্য নেই। তাঁর একক সত্তা সবদিক দিয়েই পূর্ণাংগ।

২.) আল্লাহ কারোর ওপর নির্ভরশীল নন এবং সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল।৪


৪) ) মূলে “সামাদ” শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। এ শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে (আরবী-) ধাতু থেকে। আরবী ভাষায় এ ধাতুটি থেকে যতগুলো শব্দের উৎপত্তি হয়েছে সেগুলোর ওপর নজর বুলালে এ শব্দটির অর্থের ব্যাপকতা জানা যায়। যেমনঃ (আরবী-) মনস্থ করা, ইচ্ছা করা। বিপুলায়তন বিশিষ্ট উন্নত স্থান এবং বিপুল ঘনত্ব বিশিষ্ট উন্নত মর্যাদা। উচ্চ সমতল ছাদ। যুদ্ধে যে ব্যক্তি ক্ষুধার্ত ও পিপাসার্ত হয় না। প্রয়োজনের সময় যে সরদারের শরণাপন্ন হতে হয়।

আরবীঃ প্রত্যেক জিনিসের উঁচু অংশ। যে ব্যক্তির ওপরে আর কেউ নেই। যে নেতার আনুগত্য করা হয় এবং তার সাহায্য ছাড়া কোন বিষয়ের ফায়সালা করা হয় না। অভাবীরা যে নেতার শরণাপন্ন হয়। চিরন্তন উন্নত মর্যাদা। এমন নিবিড় ও নিচ্ছিদ্র যার মধ্যে কোন ছিদ্র, শূন্যতা ও ফাঁকা অংশ নেই, যেখান থেকে কোন জিনিস বের হতে পারে না এবং কোন জিনিস যার মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না। যুদ্ধে যে ব্যক্তি ক্ষুধা-তৃষ্ণার শিকার হয় না।

আরবীঃ জমাট জিনিস, যার পেট নেই।

আরবীঃ যে লক্ষ্যের দিকে যেতে মনস্থ করা হয়; যে কঠিন জিনিসের মধ্যে কোন দুর্বলতা নেই।

আরবীঃ এমন গৃহ, প্রয়োজন ও অভাব পূরণের জন্য যার আশ্রয় নিতে হয়।

আরবীঃ উঁচু ইমারত।

আরবীঃ ঐ লোকটির দিকে যাওয়ার সংকল্প করলো।

আরবীঃ ব্যাপারটি তার হাতে সোপর্দ করলো; তার সামনে ব্যাপারটি পেশ করলো; বিষয়টি সম্পর্কে তার ওপর আস্থা স্থাপন করলো। (সিহাহ, কামূস ও লিসানুল আরব)

এসব শাব্দিক ও আভিধানিক অর্থের ভিত্তিতে “আল্লাহুস সামাদ” আয়াতটিতে উল্লেখিত “সামাদ” শব্দের যে ব্যাখ্যা সাহাবা, তাবেঈ ও পরবর্তীকালের আলেমগণ থেকে উদ্ধৃত হয়েছে নিচে আমরা তা উল্লেখ করছিঃ

হযরত আলী (রা.), ইকরামা ও কা’ব আহবার বলেছেনঃ সামাদ হচ্ছেন এমন এক সত্তা যাঁর ওপরে আর কেউ নেই।

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.), হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) ও আবু ওয়ায়েল শাকীক ইবনে সালামাহ বলেছেনঃ তিনি এমন সরদার, নেতা ও সমাজপতি, যাঁর নেতৃত্ব পূর্ণতা লাভ করেছে এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছে।


এ প্রসঙ্গে ইবনে আব্বাসের দ্বিতীয় উক্তি হচ্ছেঃ লোকেরা কোন বিপদে-আপদে যার দিকে সাহায্য লাভের জন্য এগিয়ে যায়, তিনি সামাদ। তাঁর আর একটি উক্তি হচ্ছেঃ যে সরদার তার নেতৃত্ব, মর্যাদা, শ্রেষ্ঠত্ব, ধৈর্য, সংযম, জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতায় পূর্ণতার অধিকারী তিনি সামাদ।

হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেছেনঃ যিনি কারো ওপর নির্ভরশীল নন, সবাই তাঁর ওপর নির্ভরশীল, তিনিই সামাদ।

ইকরামার আর একটি বক্তব্য হচ্ছেঃ যার মধ্য থেকে কোন জিনিস কোনদিন বের হয়নি এবং বের হয়ও না আর যে পানাহার করে না, সে-ই সামাদ। এরই সমার্থবোধক উক্তি সা’বী ও মুহাম্মাদ ইবনে কা’ব আল কুরাযী থেকেও উদ্ধৃত হয়েছে।

সুদ্দী বলেছেনঃ আকাংখিত বস্তু লাভ করার জন্য লোকেরা যার কাছে যায় এবং বিপদে সাহায্য লাভের আশায় যার দিকে হাত বাড়ায়, তাকেই সামাদ বলে।

সাঈদ আবনে জুবাইর বলেছেনঃ যে নিজের সকল গুণ ও কাজে পূর্ণতার অধিকারী হয়।

রাবী ইবনে আনাস বলেছেনঃ যার ওপর কখনো বিপদ-আপদ আসে না।

মুকাতেল ইবনে হাইয়ান বলেছেনঃ যিনি সকল প্রকার দোষ ত্রুটি মুক্ত।

ইবনে কাইসান বলেছেনঃ অন্য কেউ যার গুণাবলীর ধারক হয় না।

হাসান বসরী ও কাতাদাহ বলেছেনঃ যে বিদ্যমান থাকে এবং যার বিনাশ নেই। প্রায় এই একই ধরনের উক্তি করেছেন মুজাহিদ, মা’মার ও মুররাতুল হামদানী।

মুররাতুল হামদানীর আর একটি উক্ত হচ্ছেঃ যে নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী ফায়সালা করে এবং যা ইচ্ছা তাই করে; যার হুকুম ও ফায়সালা পুনর্বিবেচনা করার ক্ষমতা কারো থাকে না।

ইবরাহীম নাখয়ী বলেছেনঃ যার দিকে লোকেরা নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য এগিয়ে যায়।

আবু বকর আমবায়ী বলেছেনঃ সামাদ এমন এক সরদারকে বলা হয়, যার ওপরে আর কোন সরদার নেই এবং লোকেরা নিজেদের বিভিন্ন বিষয়ে ও নিজেদের প্রয়োজন পূরণের জন্য যার শরণাপন্ন হয়, অভিধানবিদদের মধ্যে এ ব্যাপারে কোন মতবিরোধ নেই। আয যুজাজের বক্তব্য প্রায় এর কাছাকাছি। তিনি বলেছেনঃ যার ওপর এসে নেতৃত্ব খতম হয়ে গেছে এবং নিজের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য প্রত্যেকে যার শরণাপন্ন হয়, তাকেই বলা হয় সামাদ।

এখন চিন্তা করুন, প্রথম বাক্যে “আল্লাহু আহাদ” কেন বলা হয়েছে এবং এ বাক্যে “আল্লাহুস সামাদ” বলা হয়েছে কেন? “আহাদ” সম্পর্কে ইতিপূর্বে বলেছি, তা শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য নির্দিষ্ট আর কারো জন্য এ শব্দটি আদৌ ব্যবহৃত হয় না। তাই এখানে “আহাদুন” শব্দটি অনির্দিষ্ট অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যদিকে “সামাদ” শব্দটি অন্যান্য সৃষ্টির জন্যও ব্যবহার করা হয়ে থাকে। তাই “আল্লাহু সামাদুন” না বলে “আল্লাহুস সামাদ” বলা হয়েছে। এর মানে হচ্ছে আসল ও প্রকৃত সামাদ হচ্ছেন একমাত্র আল্লাহ। সৃষ্টি যদি কোন দিক দিয়ে সামাদ হয়ে থাকে তাহলে অন্য দিক দিয়ে তা সামাদ নয়। কারণ তা অবিনশ্বর নয়--- একদিন তার বিনাশ হবে। তাকে বিশ্লেষণ ও বিভক্ত করা যায়। তা বিভিন্ন উপাদান সহযোগে গঠিত। যে কোন সময় তার উপাদানগুলো আলাদা হয়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কোন কোন সৃষ্টি তার মুখাপেক্ষী হলেও সে নিজেও আবার কারো মুখাপেক্ষী। তার নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব আপেক্ষিক, নিরংকুশ নয়। কারো তুলনায় সে শ্রেষ্ঠতম হলেও তার তুলনায় আবার অন্য কেউ আছে শ্রেষ্ঠতম। কিছু সৃষ্টির কিছু প্রয়োজন সে পূর্ণ করতে পারে, কিন্তু সবার সমস্ত প্রয়োজন পূর্ণ করার ক্ষমতা কোন সৃষ্টির নেই। বিপরীতপক্ষে আল্লাহর সামাদ হবার গুণ অর্থাৎ তাঁর মুখাপেক্ষীহীনতার গুণ সবদিক দিয়েই পরিপূর্ণ। সারা দুনিয়া তাঁর মুখাপেক্ষী তিনি কারো মুখাপেক্ষী নন। দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিস নিজের অস্তিত্ব, স্থায়িত্ব এবং প্রয়োজন ও অভাব পূরণের জন্য সচেতন ও অবচেতনভাবে তাঁরই শরণাপন্ন হয়। তিনিই তাদের সবার প্রয়োজন পূর্ণ করেন। তিনি অমর, অজয়, অক্ষম, তিনি রিযিক দেন--- নেন না। তিনি একক--- যৌগিক ও মিশ্র নন। কাজেই বিভক্তি ও বিশ্লেষণযোগ্য নন। সমগ্র বিশ্ব-জাহানের ওপর তাঁর নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠিত। তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ। তাই তিনি “সামাদ” নন বরং “আসসামাদ।” অর্থাৎ তিনিই একমাত্র সত্তা যিনি মূলত সামাদ তথা অমুখাপেক্ষিতার গুণাবলীর সাথে পুরোপুরি সংযুক্ত।

আবার যেহেতু তিনি “আসসামাদ” তাই তাঁর একাকী ও স্বজনবিহীন হওয়া অপরিহার্য। কারণ এ ধরনের সত্তা একজনই হতে পারেন, যিনি কারো কাছে নিজের অভাব পূরণের জন্য হাত পাতেন না, বরং সবাই নিজেদের অভাব পূরণের জন্য তাঁর মুখাপেক্ষী হয়। দুই বা তার চেয়ে বেশী সত্তা সবার প্রতি অমুখাপেক্ষী ও অনির্ভরশীল এবং সবার প্রয়োজন পূরণকারী হতে পারে না। তাছাড়া তাঁর “আসসামাদ” হবার কারণে তাঁর একক মাবুদ হবার ব্যাপারটিও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ মানুষ যার মুখাপেক্ষী হয় তারই ইবাদাত করে। আবার তিনি ছাড়া আর কোন মাবুদ নেই, “আসসামাদ” হবার কারণে এটাও অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ, যে প্রয়োজন পূরণ করার ক্ষমতা ও সামর্থ্যই রাখে না, কোন সচেতন ব্যক্তি তার ইবাদাত করতে পারে না।

৩.) তাঁর কোন সন্তান নেই এবং তিনি কারোর সন্তান নন।৫


৫) মুশরিকরা প্রতি যুগে খোদায়ীর এ ধারণা পোষণ করে এসেছে যে, মানুষের মতো খোদাদেরও একটি জাতি বা শ্রেণী আছে। তার সদস্য সংখ্যাও অনেক। তাদের মধ্যে বিয়ে-শাদী এবং বংশ বিস্তারের কাজও চলে। তারা আল্লাহ‌ রাব্বুল আলামীনকেও এ জাহেলী ধারণা মুক্ত রাখেনি। তাঁর জন্য সন্তান-সন্ততিও ঠিক করে নিয়েছে। তাই কুরআন মজীদে আরববাসীদের আকীদা বর্ণনা প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, তারা ফেরেশতাদেরকে মহান আল্লাহর কন্যা গণ্য করতো। তাদের জাহেলী চিন্তা নবীগণের উম্মাতদেরকেও সংরক্ষিত রাখেনি। তাদের মধ্যে নিজেদের সৎ ও শ্রেষ্ঠ ব্যক্তিকে আল্লাহর পুত্র গণ্য করার আকীদা জন্ম নেয়। এ বিভিন্ন ধরনের কাল্পনিক চিন্তা-বিশ্বাসের মধ্যে দুই ধরনের চিন্তা সবসময় মিশ্রিত হতে থেকেছে। কিছু লোক মনে করেছে, যাদেরকে তারা আল্লাহর সন্তান গণ্য করছে তারা সেই মহান পবিত্র সত্তার ঔরসজাত সন্তান। আবার কেউ কেউ দাবী করেছে, যাকে তারা আল্লাহর সন্তান বলছে, আল্লাহ‌ তাকে নিজের পালকপুত্র বানিয়েছেন। যদিও তাদের কেউ কাউকে (মাআ’যাল্লাহ) আল্লাহর পিতা গণ্য করার সাহস করেনি। কিন্তু যখন কোন সত্তা সম্পর্কে ধারণা করা হয় যে, তিনি সন্তান উৎপাদন ও বংশ বিস্তারের দায়িত্বমুক্ত নন এবং তাঁর সম্পর্কে ধারণা করা হয়, তিনি মানুষ জাতীয় এক ধরনের অস্তিত্ব, তাঁর ঔরসে সন্তান জন্মলাভ করে এবং অপুত্রক হলে তার কাউকে পালক পুত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রয়োজন দেখা দেয়, তখন মানুষের মন তাঁকেও কারো সন্তান মনে করার ধারণা মুক্ত থাকতে পারে না। এ কারণে রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছিল তার মধ্যে একটি প্রশ্ন ছিল, আল্লাহর বংশধারা কি? দ্বিতীয় প্রশ্নটি ছিল, কার কাছ থেকে তিনি দুনিয়ার উত্তরাধিকার লাভ করেছেন এবং তাঁর পরে এর উত্তরাধিকারী হবে কে?

এসব জাহেলী মূর্খতা প্রসূত ধারণা-কল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এগুলোকে যদি নীতিগতভাবে মেনে নিতে হয়, তাহলে আরো কিছু জিনিসকেও মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। যেমনঃ

একঃ আল্লাহ‌ এক নয়, বরং আল্লাহর কোন একটি জাতি ও গোষ্ঠী আছে। তাদের সদস্যরা আল্লাহর গুণাবলী, কার্যকলাপ ও কর্তৃত্ব-ক্ষমতায় তাঁর সাথে শরীক। আল্লাহর কেবলমাত্র ঔরসজাত সন্তান ধারণা করে নিলে এ বিষয়টি অপরিহার্য হয় না, বরং কাউকে পালকপুত্র হিসেবে ধারণা করে নিলেও এটি অপরিহার্য হয়। কেননা কারো পালকপুত্র অবশ্যি তারই সমজাতীয় ও সমগোত্রীয়ই হতে পারে। আর (মা’আযাল্লাহ) যখন সে আল্লাহর সমজাতীয় ও সমগোত্রীয় হয়, তখনই সে আল্লাহর গুণাবলী সম্পন্নও হবে, একথা অস্বীকার করা যেতে পারে না।

দুইঃ পুরুষ ও নারীর মিলন ছাড়া কোন সন্তানের ধারণা ও কল্পনা করা যেতে পারে না। বাপ ও মায়ের শরীর থেকে কোন জিনিস বের হয়ে সন্তানের রূপ লাভ করে----সন্তান বলতে একথাই বুঝায়। কাজেই এক্ষেত্রে আল্লাহর সন্তান ধারণা করার ফলে (নাউযুবিল্লাহ) তাঁর একটি বস্তুগত ও শারীরিক অস্তিত্ব, তাঁর সমজাতীয় কোন স্ত্রীর অস্তিত্ব এবং তাঁর শরীর থেকে কোন বস্তু বের হওয়াও অপরিহার্য হয়ে পড়ে।

তিনঃ সন্তান উৎপাদন ও বংশধারা চালাবার কথা যেখানে আসে সেখানে এর মূল কারণ হয় এই যে, ব্যক্তিরা হয় মরণশীল এবং তাদের জাতির ও গোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষার জন্য তাদের সন্তান উৎপাদন অপরিহার্য হয়ে পড়ে। কারণ, এ সন্তানদের সাহায্যেই তাদের বংশধারা অব্যাহত থাকবে এবং সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। কাজেই আল্লাহর সন্তান আছে বলে মনে করলে (নাউযুবিল্লাহ) তিনি নিজে যে মরণশীল এবং তাঁর বংশ ও তাঁর নিজের সত্তা কোনটিই চিরন্তন নয় একথা মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে। তাছাড়া সমস্ত মরণশীল ব্যক্তির মতো (নাউযুবিল্লাহ) আল্লাহরও কোন শুরু ও শেষ আছে, একথাও মেনে নেয়া অপরিহার্য হয়ে যায়। কারণ, সন্তান উৎপাদন ও বংশ বিস্তারের ওপর যেসব জাতি ও গোত্র নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তাদের ব্যক্তিবর্গ অনাদি-অনন্তকালীন জীবনের অধিকারী হয় না।

চারঃ কারো পালকপুত্র বলবার উদ্দেশ্য এ হয় যে, একজন সন্তানহীন ব্যক্তি তার নিজের জীবনে কারো সাহায্যের এবং নিজের মৃত্যুর পর কোন উত্তারাধিকারের প্রয়োজন বোধ করে। কাজেই আল্লাহ‌ কাউকে নিজের পুত্র বানিয়েছেন একথা মনে করা হলে সেই পবিত্র সত্তার সাথে এমন সব দুর্বলতা সংশ্লিষ্ট করা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যেগুলো মরণশীল মানুষের মধ্যে পাওয়া যায়।

যদিও মহান আল্লাহকে “আহাদ” ও “আসসামাদ” বললে এসব উদ্ভট ধারণা-কল্পনার মূলে কুঠারাঘাত করা হয়, তবুও এরপর “না তাঁর কোন সন্তান আছে, না তিনি কারো সন্তান”---একথা বলায় এ ব্যাপারে আর কোন প্রকার সংশয়-সন্দেহের অবকাশই থাকে না। তারপর যেহেতু আল্লাহর মহান সত্তা সম্পর্কে এ ধরনের ধারণা-কল্পনা শিরকের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ কারণগুলোর অন্তর্ভুক্ত, তাই মহান আল্লাহ‌ শুধুমাত্র সূরা ইখলাসেই এগুলোর দ্ব্যর্থহীন ও চূড়ান্ত প্রতিবাদ করেই ক্ষান্ত হননি, বরং বিভিন্ন জায়গায় এ বিষয়টিকে বিভিন্নভাবে বর্ণনা করেছেন। এভাবে লোকেরা সত্যকে পুরোপুরি বুঝতে সক্ষম হবে। দৃষ্টান্ত স্বরূপ নীচের আয়াতগুলো পর্যালোচনা করা যেতে পারেঃ

আরবী--

“আল্লাহ-ই হচ্ছেন একমাত্র ইলাহ। কেউ তাঁর পুত্র হবে, এ অবস্থা থেকে তিনি মুক্ত-পাক-পবিত্র। যা কিছু আকাশসমূহের মধ্যে এবং যা কিছু যমীনের মধ্যে আছে, সবই তার মালিকানাধীন।” (আন নিসা, ১৭১)

“জেনে রাখো, এরা যে বলছে আল্লাহর সন্তান আছে, এটা এদের নিজেদের মনগড়া কথা। আসলে এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা।” (আস সাফফাত, ১৫১-১৫২)

আরবী------------------------

“তারা আল্লাহ‌ ও ফেরেশতাদের মধ্যে বংশীয় সম্পর্ক তৈরি করে নিয়েছে অথচ ফেরেশতারা ভালো করেই জানে এরা (অপরাধী হিসেবে) উপস্থাপিত হবে।” (আস সাফফাত, ১৫৮)

আরবী------------------------

“লোকেরা তাঁর বান্দাদের মধ্য থেকে কাউকে তাঁর অংশ বানিয়ে ফেলেছে। আসলে মানুষ স্পষ্ট অকৃতজ্ঞ।” (আয্‌ যুখরুফ, ১৫)

আরবী-----------------------

“আর লোকেরা জিনদেরকে আল্লাহর শরীক বানিয়েছে। অথচ তিনি তাদের স্রষ্টা। আর তারা না জেনে বুঝে তাঁর জন্য পুত্র-কন্যা বানিয়ে নিয়েছে। অথচ তারা যে সমস্ত কথা বলে তা থেকে তিনি মুক্ত ও পবিত্র এবং তার উর্ধ্বে তিনি অবস্থান করছেন। তিনি তো আকাশসমূহ ও পৃথিবীর নির্মাতা। তাঁর পুত্র কেমন করে হতে পারে যখন তাঁর কোন সঙ্গিনী নেই? তিনি প্রত্যেকটি জিনিস সৃষ্টি করেছেন।” (আল আন’আম, ১০০-১০১)

আরবী--------------

“আর তারা বললো, দয়াময় আল্লাহ‌ কাউকে পুত্র বানিয়েছেন। তিনি পাক-পবিত্র। বরং (যাদেরকে এরা তাঁর সন্তান বলছে) তারা এমন সব বান্দা যাদেরকে মর্যাদা দান করা হয়েছে।” (আল আম্বিয়া, ২৬)

আরবী--------------------

“লোকেরা বলে দিয়েছে, আল্লাহ‌ কাউকে পুত্র বানিয়েছেন আল্লাহ‌ পাক-পবিত্র! তিনি তো অমুখাপেক্ষী। আকাশসমূহে ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর মালিকানাধীন। এ বক্তব্যের সপক্ষে তোমাদের প্রমাণ কি? তোমরা কি আল্লাহর সম্পর্কে এমনসব কথা বলছো, যা তোমরা জানো না?” (ইউনুস, ৬৮)

আরবী-----------------------------

“আর হে নবী! বলে দাও, সেই আল্লাহর জন্য সব প্রশংসা যিনি না কাউকে পুত্র বানিয়েছেন, না বাদশাহীতে কেউ তাঁর শরীক আর না তিনি অক্ষম, যার ফলে কেউ হবে তাঁর পৃষ্ঠপোষক।” (বনী ইসরাঈল, ১১১)

আরবী----------------------------

“আল্লাহ কাউকে পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে দ্বিতীয় কোন ইলাহও নেই।” (আল মু’মিনূন, ৯১)

যারা আল্লাহর জন্য ঔরসজাত সন্তান অথবা পালকপুত্র গ্রহণ করার কথা বলে, এ আয়াতগুলোতে সর্বতোভাবে তাদের এহেন আকীদা-বিশ্বাসের প্রতিবাদ করা হয়েছে। এ আয়াতগুলো এবং এ বিষয়বস্তু সম্বলিত অন্য যে সমস্ত আয়াত কুরআনের বিভিন্ন স্থানে পাওয়া যায়, সেগুলো সূরা ইখলাসের অতি চমৎকার ব্যাখ্যা।

৪.) এবং তাঁর সমতুল্য কেউ নেই।৬


৬) মূলে বলা হয়েছে কুফূ (আরবী--------) এর মানে হচ্ছে নজীর, সদৃশ, সমান, সমমর্যাদা সম্পন্ন ও সমতুল্য। বিয়ের ব্যাপারে আমাদের দেশে কুফূ শব্দের ব্যবহার আছে। এক্ষেত্রে এর অর্থ হয়, সামাজিক মর্যাদার দিক দিয়ে ছেলের ও মেয়ের সমান পর্যায়ে অবস্থান করা। কাজেই এখানে এ আয়াতের মানে হচ্ছেঃ সারা বিশ্ব-জাহানের আল্লাহর সমকক্ষ অথবা তাঁর সমমর্যাদা সম্পন্ন কিংবা নিজের গুণাবলী, কর্ম ও ক্ষমতার ব্যাপারে তাঁর সমান পর্যায়ে উন্নীত হতে পারে এমন কেউ কোনদিন ছিল না এবং কোন দিন হতেও পারবে না।

 তথ্যসূত্র : তাফসিরে তাফহীমুল কোরআন ৷ 


 

 

শনিবার, ১০ ডিসেম্বর, ২০২২

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

তারিখ: 07/02/2022

প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি

নাঈম হোসেন 
মাতৃত্বকালীন ছুটি এক বছর চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে খোলা চিঠি।
নাঈম হোসেন, 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, 
                       আমার সালাম নিবেন। আমি একজন সাধারণ নাগরিক। আমার নাম মোঃ নাঈম হোসেন । আমার ঠিকানাঃ গ্রাম, পোষ্ট চরবংশী, ওয়ার্ডনং-৭, ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়ন, ডাকঘর: চরবংশী খাসের হাট,  উপজেলাঃ রায়পুর, জেলাঃ লক্ষ্মীপুর, আমার মোবাইল নং০১৭২৬১০২৭১৫ আপনি কেমন আছেন? আশা করি, মহান দয়াময়ের অশেষ কৃপায় খুব ভালো আছেন! আমিও আপনার মত, মমতায়ী একজন মাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে অনেক খুশি এবং ভালো আছি।
পরসমাচার, 
                  মা আপনি অবগত আছেন যে, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান,  নারীদেরকে অনেক বেশী ভালোবাসতেন ও সম্মান করতেন। 
আপনি আরও জেনে অবাক হবেন যে, ইসলামের মহাগ্রন্থ আল কোরআনে ‘নিসা’ অর্থাৎ ‘মহিলা’ শব্দটি ৫৭ বার এবং ‘ইমরাআহ’ অর্থাৎ ‘নারী’ শব্দটির ২৬ বার উল্লেখ হয়েছে। পবিত্র কোরআনে ‘নিসা’ তথা ‘মহিলা’ শিরোনামে নারীর অধিকার ও কর্তব্যসংক্রান্ত একটি স্বতন্ত্র বৃহৎ সূরাও রয়েছে। এ ছাড়া কোরআনের বিভিন্ন আয়াত ও হাদিসে নারীর অধিকার, মর্যাদা ও তাদের মূল্যায়ন সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা রয়েছে। ইসলাম নারীর ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করেছে। দিয়েছে নারীর জান-মালের নিরাপত্তা ও সর্বোচ্চ সম্মান।

আমাদের প্রিয় নবী (সঃ)ও, নারীদেরকে অনেক সম্মান ও মর্যাদা করতেন। নারীদের সম্মান বাড়িয়ে দিতে  মহানবী (সা.) ঘোষণা করেন, ‘যার রয়েছে কন্যাসন্তান, সে যদি তাকে (শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে) অবজ্ঞা ও অবহেলা না করে এবং পুত্রসন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য না দেয়; আল্লাহ তাআলা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘তোমরা নারীদের উত্তম উপদেশ দাও (উত্তম শিক্ষায় শিক্ষিত করো)।’ হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘ইলম শিক্ষা করা (জ্ঞানার্জন করা) প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর প্রতি ফরজ (কর্তব্য)।’ (উম্মুস সহিহাঈন-ইবনে মাজাহ শরিফ)। ইসলাম নারীদের সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়েছে মা হিসেবে। মহানবী (সা.) বলেন, ‘মায়ের পদতলে সন্তানের বেহেশত’। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, একবার এক লোক মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর দরবারে এসে জিজ্ঞেস করলেন, আমার সদ্ব্যবহার পাওয়ার বেশি অধিকারী কে? নবীজি (সা.) বললেন, ‘তোমার মা’। ওই লোক জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। ওই লোক আবারও জিজ্ঞেস করলেন, তারপর কে? এবারও তিনি উত্তর দিলেন ‘তোমার মা’। (বুখারি)। ইসলামের দৃষ্টিতে নারী-পুরুষ একে অন্যের পরিপূরক। 

এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে রয়েছে, ‘তারা তোমাদের আবরণস্বরূপ আর তোমরা তাদের আবরণ।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত: ১৮৭)। স্ত্রীর গুরুত্ব সম্পর্কে মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘উত্তম স্ত্রী সৌভাগ্যের পরিচায়ক।’ (মুসলিম শরিফ)। তিনি আরও বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে সে–ই উত্তম, যে তার স্ত্রীর কাছে উত্তম।’ (তিরমিজি)। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা তোমাদের স্ত্রীদের সঙ্গে সদাচরণ করো।’ (সূরা-৪ নিসা, আয়াত: ১৯)। কোরআনে আরেক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘নারীদের ওপর যেমন অধিকার রয়েছে পুরুষের, তেমনি রয়েছে পুরুষের ওপর নারীর অধিকার।’ (সূরা-২ বাকারা, আয়াত ২২৮)। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                              আপনিও একজন মা। আপনি সমগ্র বাঙ্গালিদের মা। আপনি অতুলনীয়!  আপনি মহিয়সী! আমি আপনার একজন সন্তান হিসেবে, বাংলার সমগ্র মায়েদের কথা ভেবে আপনার কাছে একটা ছোট আবদার করতে চাই। আমার এ দাবি সমস্ত মায়েদের পক্ষে। 
মা আপনি নিশ্চয়ই জানেন ; একজন গর্ভধারী মায়ের , সন্তান গর্ভে আসা থেকে শুরু করে , সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত মাকে কতটা কষ্টের মহাসমুদ্র পার করতে হয়।
কষ্টের পর কষ্ট,একাধিক তীব্র যন্ত্রণা একজন  মাকে সহ‍্য করতে হয়। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                            আপনি আরও জেনে অবাক  হবেন যে, ডাক্তারী তথ্য মতে , নারীর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হল গর্ভাবস্থা। শুধু মা নয়, তার শিশুর জীবন কীভাবে গড়ে উঠবে তা অনেকটাই  নির্ভর করে এ সময়ের ওপর। সৃষ্ট জগতের সবচাইতে অসাধারণ প্রক্রিয়া বোধহয় গর্ভধারণের মাধ্যমে একজন মানুষের সৃষ্টি। একটি মানব শিশুর জন্ম। ছোট একটি কোষ থেকে এক বিন্দু রক্ত কণিকা - তারপর গঠন হয় ছোট নরম তুলতুলে এক অপরূপ মানবশিশু। একজন মহিলার গর্ভধারণ থেকে শিশুজন্মের মাঝে মোট সময় মোটামুটি ৪০ সপ্তাহ। সর্বশেষ স্বাভাবিক মাসিক (মেনসচুরাল পিরিয়ড) থেকে সাধারণত সময়টি গননা করা হয়। দিনের হিসেবে বলা যেতে পারে ২৫০ থেকে ২৮৫ দিন । মোট সময়কালকে তিনটি ট্রাইমেস্টারে ভাগ করা হয়; প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়  ট্রাইমেস্টার । গর্ভধারনের ১ম থেকে ১৩ সপ্তাহকে ধরা হয়  প্রথম ট্রাইমেস্টার। দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার ১৪ থেকে ২৬ সপ্তাহ এবং তৃতীয় বা শেষ ট্রাইমেস্টার। ২৭ সপ্তাহ থেকে বাচ্চা জন্মের আগ পর্যন্ত সময়কাল। এ তিনটি ট্রাইমেস্টারই  একজন মাকে পার করতে হয় নানা সমস্যার মধ্যে দিয়ে, যা একজন গর্ভবতী মায়ের পক্ষে অসহনীয় যাতনার ও বেদনার। 

এই বেদনা আমাদের মতো অনেক পাষণ্ড পুরুষেরা বুঝেনা ও বুঝতে চেষ্টাও করে না ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                            একজন মা গর্ভকালীন  সময়ে ৩টি ট্রাইমেস্টারে  যেসকল সমস্যার মোকাবেলা করেন তার একটা সংক্ষিপ্ত তালিকা সকলের অবগতির জন্য তুলে ধরলাম আপনার কাছে এই চিঠিতে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                             একজন মায়ের গর্ভাবস্থার প্রথম ট্রাইমেস্টারে যেসকল উপসর্গ দেখা দেয় তা হলো - ক্লান্তিবোধ, কোমরে এবং মেরুদণ্ডে ব‍্যাথা, রাতের বেলায় ভালো ঘুম না হওয়া, মুডসুইং কিংবা গর্ভধারণের লক্ষণগুলো নিয়ে অস্বস্তিতে ভুগতে পারেন। আবার কিছু মায়েদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা Anxiety কিংবা গর্ভকালীন হতাশা লক্ষ্য করা যায়। ফলে ঘন ঘন প্রসাবের বেগ হয়। তাছাড়া বমি বমি ভাব বা মর্নিংসিকনেস হয়। আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে দেখেছি, প্রথম তিন মাসে এতোটা বমি করেছে যে, বমি করতে করতে কখনও সে জ্ঞান হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। আবার হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছে। এই অবস্থা নিয়ে একজন চাকরীজীবি  মায়ের জন্য অফিস করা সম্ভব হবে কী মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? আর ডাক্তারও এসময় অনেক 
সাবধানে থাকতে বলেন। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!                      
                         আমাদের দেশে বর্তমান সংসদে আপনিসহ মোট  চারজন মা অনন্য মন্ত্রীর পদে রয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী  হিসেবে আছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আপনি। ডা. দীপু মণি  শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে নতুন মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব পালন করেন। 
বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এবার প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের। 
বেগম হাবিবুন নাহার উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের।
আর বিদায়ী মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমত আরা সাদেক, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বেগম মেহের আফরোজ চুমকি ও তথ্য মন্ত্রণালয়ে তারানা হালিম দায়িত্ব পালন করেছেন। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                      আপনারা মা হয়ে কী একজন গর্ভবতী মায়ের কষ্ট কে উপলব্দি করবেননা?  একজন মা কি এতটুকু ইহসান পাওয়ার অধিকারী নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী? এটা কি নারীদের অধিকার নয় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                           আমি সমস্ত মায়েদের উপরে উল্লেখিত সকল সমস্যার কথা বিশেষ বিবেচনা করে, সরকারি আধা সরকারি চাকরি জীবি সকল মায়েদের পক্ষ হয়ে আপনার কাছে এই আবদার করছি, চাকরিরত সকল মায়েদের মাতৃত্বকালীণ ছুটি ছয় মাসের পরিবর্তে এক বছর করে দেওয়া হলে গর্ভকালীন নানা সমস্যায় তারা নিজ নিজ ঘরে বিশ্রামে থাকতে পারবে। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী!
                            হে আমার প্রিয় মা! আমি আমার প্রিয়তমা স্ত্রীকে খুব বেশী ভালোবাসি! আমি আমার স্ত্রীর কান্না দেখেছি! অসুস্থতা নিয়ে অফিস করা কতটা কষ্টের সেটা আমি উপলব্দি করেছি আমার প্রিয়তমার চোখের পানির মধ্যে। অফিস করা,অফিস আদেশ মেনে চলা এবং নিয়মকানুন রক্ষা করতে গিয়ে আমাদের দুটো সন্তান আমরা হারিয়েছি। আমার সহধর্মিণী শোকে প্রায় মানসিক রোগী । 

দ্বিতীয় আবার একটা সন্তানের জনক হতে পারব কিনা সেটাও ভাগ্য বিধাতা জানে?আর যেন কোন মাকে এরকম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা নিয়ে অফিস করে সন্তান না হারাতে হয়, সেজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে আমার এ চিরুকুট। আর আমি পৃথিবীর সকল নারীদেরকে অনেক সম্মান ও শ্রদ্ধা করি। একটা দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না। তাই  প্রতিটি জন্মই হোক পরিকল্পিত, নিরাপদ হোক মাতৃত্বের প্রতিটি মূহুর্ত, এই স্লোগান কে সামনে রেখে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, উপরে বর্ণিত সকল সমস্যা ও নারীর মর্যাদা এবং অধিকারের কথা বিশেষ বিবেচনা করে, যাতে সকল চাকরিজীবি মায়েরা মাতৃত্বকালীন ছুটি এক বছর পায় তার জন্য বঙ্গমাতা হিসেবে আপনার কাছে আকুল আবেদন রইল। 
পরিশেষে আপনার সুস্থতা ও দীর্ঘায়ু জীবন কামনা করছি। 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী! 
                        আমি আশা করি আপনার একজন সন্তান হিসেবে আমি আমার পত্রের উত্তর পাবো। আল্লাহ হাফেজ।
          সমাপ্ত ৷৷

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷

রবিবার, ৪ নভেম্বর, ২০১৮

কবিতা শুদ্ধাচার লেখক নাঈম হোসেন

শুদ্ধাচার

নাঈম হোসেন 

ধর্মীয় বিধান মতে সেই বারো বছরে সাবালক হয়েছি।
তারপর থেকে প্রয়োজন-অপ্রয়োজন কত হেল-দোল জীবন কাটিয়েছি।
ছাত্র জীবনের পড়াশুনা শেষে চাকুরীর পিছু ছুটেছি।
চাকুরী হোক আর না হোক কর্মজীবনে ছুটেছি।

তারপর বিবাহ বন্ধনে বউয়ের প্রণয় চেয়েছি।
কি চেয়েছি? কী পেয়েছি? 
যা কভু চাইনি হয়ত বেমক্কা তা পেয়েছি।
কিন্তু আমার উপর অর্পিত কর্তব্য বেমালুম ভুলে গেছি।

আমার উপর অর্পিত কর্তব্য কী? 
কোরআন -হাদীসের সেই আজ্ঞা ছুঁয়েও দেখিনি।
কেউ উপদেশ দিলেও তাকে দিয়েছি ধমকানি।
অলস জীবনে কোরআন-হাদীস পড়িনি,
ধর্মীয় শিক্ষা পাইনি, 
রোজা-নামাজ পড়িনি।
শুধু অর্থের পিছু ছুটেছি,
কখনও আত্মকথা ভাবিনি,
আত্মশুদ্ধি চাইনি,

যা চেয়েছি,
যা পেয়েছি, 
সব মিছে মায়া! 
মাটিতে বিলীন হবে কায়া ! 

কিছুই হবেনা পরপারের সাথী।
কবর হবে আখেরাতের প্রথম মঞ্জিল, ঘুটফুটে অন্ধকার সেথায় থাকবে না বাতি।
সেদিন থাকবে শুধু ঈমানের জ‍্যোতি।
ফিরে এসো সবে আর না করি কেহ পাপাচার, আল্লাহর কাছে নিজেকে সঁপে চাই শুদ্ধাচার।
                  সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ৩ জুলাই ২০২২ইং রোজ রবিবার৷

কবিতা নীরবকান্না লেখক নাঈম হোসেন

নীরবকান্না 

নাঈম হোসেন 

দ্রব‍্য মূল্য দফায় দফায় বাড়ছে
তাই মানুষ নীরবে কাঁদছে।
মধ্যবিত্ত গরীব সবাই হাহাকার করছে
কী খাবে কী করবে নির্জনে ভাবছে?

তেল থেকে নুন 
সবকিছুতে আগুন 
গ‍্যাসের দামও বৃদ্ধি কয়েকগুণ
মরার উপর খাড়ার পা কষ্ট দ্বিগুণ।

গরিবের মাথায় হাত 
পেটে জুটেনা ভাত
ধনীদের আয়েশ তবু স্বর্ণ, রৌপ্য, হিরক, পান্না।
মধ্যবিত্ত করছে হায় হায়, নীরব কান্না।

সইতে না পেরে কেউ সরকারকে দেয় গালি
তা দেখে চামচারদল দেয় হাততালি।
তেল, চাউল সবকিছু গুদামে মজুদ আছে।
অধিক লাভের জন্য ব‍িক্রেতা কৃত্রিম সংকট করছে।

প্রশাসন অভিযান দিয়ে সিন্ডিকেট চক্র ধরছে 
ক্রেতাদের কাছে 
সরকার দাম বাড়াইছে 
এমন মিথ্যা বানোয়াট রটনা করছে।

সিন্ডিকেট চক্রের নির্মূল চাই 
নীরব কান্না আর না
গরীব মোরা বাঁচতে চাই 
অপরাধীদের ছাড় না।
           সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ১২ মার্চ ২০২২ইং
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

কবিতা সংমিশ্রণ লেখক নাঈম হোসেন

 

সংমিশ্রণ 
নাঈম হোসেন 

সত্য-মিথ্যার সংমিশ্রণ,
ইসলাম পুরোপুরি করছে বারণ।
মুসলিম মোরা যদি চাই ধর্মীয় জীবন-যাপন, 
সত্যের বৈ নেই কিছু মিথ্যা করব বিতাড়ন।

যারা সত্যের বিপরীতে মিথ্যা প্রচার করছে। 
তাদের সম্পর্কে সুরা আনকাবূত তিন ও চার অহীতে আছে,
আল্লাহ অবশ্যই জেনে নিবেন সত্যবাদীদেরকে।
নিশ্চয়ই জেনে নিবেন মিথ্যুকদেরকে। 

যারা মন্দ কাজ করছে, 
তারা নিজেদেরকে কি মনে করছে ?
তারা আমার হাত থেকে বেঁচে যাবে?
তাদের ফায়ছালা খুবই মন্দ’ হবে।

মায়েদাহ একশত আয়াতে আল্লাহ বলেন ;
হে নবী লোকদেরকে বলেদিন!
অপবিত্র ও পবিত্র সমান নয়।
যদিও অপবিত্রের প্রাচুর্যে বিস্মিত হয়।
হে বুদ্ধিমানগণ! আল্লাহকে ভয় পাও। 
যদি তোমরা মুক্তি চাও?

আয়াত বাষট্টি সূরা আলে ইমরান।
‘নিঃসন্দেহে এটাই হ’ল সত্য ভাষণ।
এক আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন ইলাহ নাই।
তিনিই পরাক্রমশালী মহাপ্রাজ্ঞ জেনে নাও সবাই ।

অন্যত্র মহান আল্লাহ ফরমান;
এটাই প্রমাণ যে আল্লাহই সত্য।
আল্লাহ ছাড়া তারা যাদের পূজা করে সব অসত্য ।
আল্লাহ সর্বোচ্চ মহান।
ওহীনামা ত্রিশ সূরা লোক্বমান।

একই ভাবার্থে পুনরায় আল্লাহ সূরা হজ্জ ওহী বাষট্টিতে ফরমান;
আল্লাহই সত্য।
তাঁর পরিবর্তে তারা যাকে ডাকে, তা অসত্য। 
আল্লাহই সবার উচ্চে, মহান।

আয়াত তেত্রিশ সূরা যুমার আল্লাহ বলেছে;
যারা সত্য নিয়ে আগমন করেছে,
এবং সত্যকে সত্য মেনে নিয়েছে,
তারাই তো আল্লাহভীরু।
তাদের দেখে ঈমান হয় জাগ্রত! হয় অশ্রুনীর।

সত্যের অনুকূলে মহান আল্লাহ আরও বলেন,
স্বীয় নির্দেশে আল্লাহ সত্যকে সত্যে পরিণত করেন।
যদিও পাপীদের তা মনঃপূত নয়।
সূরা ইউনুস বিরাশি ওহীতে আল্লাহ একথা  কয়।

সূরা আন‘আম একুশ আয়াতে পাবে;
যে আল্লাহর প্রতি মিথ্যা অপবাদ দিবে,
অথবা তাঁর নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলবে, তার চাইতে বড় যালেম আর কে হবে ? নিশ্চয়ই যালেমরা সফলকাম নহি হবে।

আল ইমরান চুরানব্বই আয়াতে আল্লাহ বলেছে ,
অতঃপর যারাই আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরপ করেছে,
তারাই যালেম, সীমালংঘনকারী হয়েছে।

সূরা আনকাবূত আটষট্টি ও উনসত্তর আয়াত বলে,
যে আল্লাহর সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলে,
অথবা তার কাছে সত্য আসার পর তাকে অস্বীকার করে চলে,
তার স্মরণ করা উচিত নয় কী?
যে জাহান্নামই সে সব কাফেরের আশ্রয়স্থল হবে।
আর যারা তাঁর পথে সাধনায় আত্মনিয়োগ করবে ,
আল্লাহ অবশ্যই তাদেরকে তাঁর পথে পরিচালিত করবে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ সৎ কর্মপরায়ণদের সঙ্গী হবে। 

সূরা মুমিনূন আয়াত চুয়াল্লিশ আল্লাহ ঘোষণা করেছে;
আমি একাদিক্রমে রাসূল প্রেরণ করেছি।
যখনই কোন উম্মতের কাছে,
তাঁর রাসূল আগমন করেছে,
তখনই তারা তাঁকে মিথ্যাবাদী বলেছে।
অতঃপর আমি তাদের একের পর এক ধ্বংস করেছি।
এবং তাদেরকে কাহিনীর বিষয়ে পরিণত করেছি।
সুতরাং ধ্বংস হোক অবিশ্বাসীরা’ 
আল্লাহ সম্পর্কে বানোয়াট রটনা করছে যারা।

সূরা আন‘আম উনপঞ্চাশ নং আয়াতে রবের ঘোষণা জেনে নিবে;
আল্লাহ বলেন, যারা আমার নিদর্শনাবলীকে  মিথ্যা বলবে, 
তাদেরকে তাদের নাফারমানীর কারণে আযাব স্পর্শ করবে।

মিথ্যাবাদীদের সন্বোধন করে আল্লাহ বলেন,
‘হ্যাঁ, তোমার কাছে আমার নির্দেশ এসেছিলে।
অতঃপর তুমি তাকে মিথ্যা বলেছিলে,
অহংকার করেছিলে 
এবং কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলে।
যারা আল্লাহর প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে,
ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুখ কালো দেখবে।
অহংকারীদের আবাসস্থল জাহান্নাম হবে।
সূরা যুমার উনষাট ও ষাট আয়াতে একথাগুলো পাবেন।
একই বিষয়ে পুনরায় বর্ণিত হয়েছে,
নিশ্চয়ই যারা কুরআন আসার পর তা অস্বীকার করছে,
তাদের মধ্যে চিন্তা-ভাবনার অভাব রয়েছে।
এটা অবশ্যই এক সম্মানিত গ্রন্থ। 
যা সকলে মেনে নিতে পারেন নিঃসন্দেহ।
এতে মিথ্যার প্রভাব নেই,
সামনের দিক থেকেও নেই 
পিছন দিক থেকেও নেই। 
এটা প্রজ্ঞাময়, প্রশংসিত আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ।
যা অনুসরণ করে জীবন হবে সবার ধন‍্য।

আল্লাহ তাঁর নবীকে আরও বলেন ;
হে নবী! ওরা যাকিছু বলছে আপনাকে,
তা বলা হ’ত পূর্ববর্তী রাসূলগণকে।
নিশ্চয়ই আপনার পালনকর্তার কাছে ক্ষমা
রয়েছে 
এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তিও রয়েছে।
সূরা হা-মীম-সাজদাহ একচল্লিশ ও তেতাল্লিশে একথা ঘোষণা দেন।

মিথ্যাবাদীদের উদ্দেশ্যে করে,
আল্লাহ সূরা আন‘আম ১১৫-১১৬ আয়াতে ঘোষণা করে;
হে নবী! আপনার প্রতিপালকের বাক্য পূর্ণ সত্য ও মানানসই।
তাঁর বাক্যের কোন পরিবর্তনকারী নই।
শ্রবণকারী ও মহাজ্ঞানী একমাত্র আল্লাহই।

আর যদি আপনি পৃথিবীর অধিকাংশ লোকের কথা মেনে নেন, 
তবে তারা আপনাকে আল্লাহর পথ থেকে বিপথগামী করে দিবেন।
তারা শুধু অলীক কল্পনার অনুসরণ করে
এবং সম্পূর্ণ অনুমান ভিত্তিক কথাবার্তা রটনা করে।

সূরা ইউনুস একশত আট আয়াতে আল্লাহর ঘোষণা হচ্ছে-
হে মানবকূল! সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে।
এখন যে কেউ সত্য পথে আসে সে পথপ্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য।
যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য।
হে নবী! আপনি বলুন, যে আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
অতএব সৎপথে চলো, সৎকর্ম করো ও পড়ো আল কোরআন বই।

হে মানব জাতি! শোন; সূরা বাক্বারাহ আয়াত  বিয়াল্লিশ এর ঘোষণা!

তোমরা সত্যকে মিথ্যার সাথে মিশিয়ে দিও না।
আর জানা সত্ত্বেও সত্যকে গোপন করো না।
সূরা তওবাহ একশত ঊনিশ আয়াতে আল্লাহ করেন ঘোষণা;
ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করতে থাক
এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।

সূরা বনী ইসরাঈল একশত পাঁচ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, আমি বলেছি;
আমি সত্যসহ এ কুরআন অবতীর্ণ করেছি
এবং সত্যসহই এটা অবতীর্ণ হয়েছে।
আমার দোস্ত মোহাম্মদ তা সবার কাছে প্রচার করছে।
আমি তো আমার নবীকে শুধু সুসংবাদদাতা করে পাঠিয়েছি।
এবং ভয়প্রদর্শক করেই প্রেরণ করেছি।

মহান আল্লাহ সূরা আ'রাফ আয়াত নং একশত উনআশিতে বলেন;
আমি সৃষ্টি করেছি জাহান্নামের জন্য বহু জিন ও মানুষ।
তাদের বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে,
তারা সবকিছু বোধগম্য নয়তো বেহুঁশ।
তাদের অন্তর রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা বিবেচনা করে না।
তাদের চোখ রয়েছে, 
কিন্তু তার দ্বারা তারা দেখে না।
তাদের কান রয়েছে,
কিন্তু তার দ্বারা তারা শোনে না। 
তারা চতুষ্পদ জন্তুর মত,
বরং তাদের চেয়েও ঘৃণিত।

তারাই হ’ল গাফেল, শৈথিল্যপরায়ণ।

একই বিষয়ে সূরা সাজদা আয়াত নং তেরো আল্লাহ বলেন,
আমার এ উক্তি অবধারিত সত্য,
আমি জিন ও মানব সকলকে দিয়ে অবশ্যই জাহান্নাম পূর্ণ করব।

সূরা রূম ষাট নং আয়াতে আল্লাহ তাঁর নবীকে বলেন , 
আপনি ছবর করুন!
আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
যারা বিশ্বাসী নয়, তারা যেন আপনাকে বিচলিত করতে না পারে।
আপনি অটুট থাকবেন আল্লাহর তরে।

সূরা বাক্বারাহ একশত সাতচল্লিশ নং আয়াতে আল্লাহ ঘোষণা করেন ;
বাস্তব সত্য সেটাই যা আপনার পালনকর্তা বলেন। 
কাজেই আপনি সন্দিহান হবেন না।

সূরা লোক্বমান তেত্রিশ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন,
হে মানব জাতি! তোমরা তোমাদের পালনকর্তাকে ভয় কর।
এবং এমন এক দিবসকে ভয় কর,
যখন পিতা পুত্রের কোন কাজে আসবে না।
এবং পুত্রও তার পিতার কোন উপকার করতে পারবে না।
নিঃসন্দেহে আল্লাহর ওয়াদা সত্য।
অতএব পার্থিব জীবন যেন,
তোমাদেরকে ধোঁকা দেয় না।
এবং আল্লাহ সম্পর্কে শয়তান যেন তোমাদেরকে প্রতারিত করে না।

এসো সবে সত্যের জন্য করি লড়াই, মিথ্যা করি বর্জন।
নীতি নৈতিকতা না বিকিয়ে করি সমর্থন।
সত্যের সঙ্গে মিথ্যা না করি সংমিশ্রণ।
আল্লাহকে ভয় করি, পরকালের জন্য করি নেকী অর্জন।
সমাপ্ত।।
রচনাকালঃ ১৯ জুলাই ২০২২ইং রোজ মঙ্গলবার।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত ৷ 

স্মরণ কথা লেখক নাঈম হোসেন

স্মরণ কথা- 

 নাঈম হোসেন  ৷ 

Freelancing কোর্স করতে এসে খুবই ভালো লাগছিলো ৷ চোখের পলকেই যেন সময়টা শেষ হয়ে গেলো ৷ 

পরীক্ষা দিয়েছিলাম ব্যাচের সবাই সাকসেস হয়েছি ! আলহামদুলিল্লাহ ৷ সবাই চলে গেছে ৷ 

সারাদিন মনটা বিষম খারাপ লাগছিলো ৷ ৭ নং pc তে পরীক্ষা দিয়েছিলাম ৷ অনেক্ষণ সেখানে চুপচাপ বসে ছিলাম ! জীবনের শেষ পরীক্ষা হবে হয়তো তাই অনেকটা মায়া হয়েছিলো pc টার প্রতি ৷ 

একটা গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ চোখ থেকে সহসা অশ্রু নির্গত হচ্ছিলো ৷ সামনে আমাদের ব্যাচের মিজান ভাই বসা ছিলো খেয়াল ছিলো না ৷ 

কী একটা বিষয় নিয়ে গভীর ধ্যানে ছিলাম ৷ হ্যাঁ মনে পড়েছে ৷ অতীত স্মৃতি ! শৈশব কল্পনায় প্রবেশ করেছিলাম ৷ মিজান ভাই ব্যাপারটা কিছুটা উপলব্ধি করেছিলো দেখতে পাইনি ৷ ভাবছিলাম কেউ নেই অজর ধারায় কান্না আসছিলো কেন তা জানিনে ৷ হ্যাঁ মনে পরেছে ৷ একাধিক প্রতিষ্ঠানে পড়েছিলাম কারণ এক প্রতিষ্ঠানে একটা ক্লাসের বেশী পড়তে কখনো মন বসতোনা ৷ জীবনে অনেক গুলো ক্লাস পার করে শিক্ষা জীবনের ইতি টেনেছিলাম সেই ২০১০ সালে ৷

 কিন্তু এখনও মনে হচ্ছেনা যে , আমি শিক্ষা জীবন থেকে দূরে আছি ৷ স্যারদের রাগাতে বেশ পছন্দ করতাম আর বোকামির ভান ধরাটা হচ্ছে আমার একটা শৈশব মুদ্রাদোষ ৷ যাহোক , সামনে বেশী বাড়াবনা , সংক্ষেপে ইতি-রেখায় প্রবেশ করতে চাই ৷ 

স্যারদের প্রতি যথেষ্ট ভক্তি করতাম ৷ কিন্তু বোকামির ভানের কারণে হয়তো অনেক স্যার আমাকে ভুল বুঝে উল্টো দৃষ্টিতে দেখতো ৷ 

যাহোক , অনেকটা বছর পর Freelancing কোর্সটা খুব ভালো লাগছিলো ৷ ভাবতেও পারিনি এতো তাড়াতাড়ি কোর্সের সময়টা শেষ হয়ে যাবে ৷ তবে হ্যাঁ সত্যি কথাটা বলতে ভুলেই গিয়েছলাম ৷ 

freelancing কোর্সে এসে শৈশব শিক্ষার বিপরীত কিছু স্যারদের পেলাম ৷ এখানকার স্যারদের দেখে মনে হলো , তাঁরা আমাদের শুধু একজন শিক্ষাগুরুই নন৷ তাঁরা আমাদের জীবন চলার পাথেয় ও একজন ভালো গাইড লাইন এবং অভিভাবক-ও বটে ৷

 রোজ সকাল হলেই ইচ্ছা করবে ট্রেনিং সেন্টারে যেতে- কিন্তু আমাদের কোর্সতো শেষ, আর কি যেতে পারব ? বা, যাওয়াটা কি ঠিক হবে ? বিখ্যাত কবিদের সেই বিখ্যাত লেখাগুলো তখন হঠাত্‌ মনে পড়তেই হাউমাউ করে কান্না আসছিলো ৷

যেতে নাহি দিবো হায় ! 
তবুও যেতে দিতে হয় ৷ 
তবু তারা চলে যায় ৷
সময়ের সাথে সাথে মানুষের রুপ পাল্টায়৷ 

ব্যচের মিজান ভাই , 
নোমান ভাই, 
রাফি ভাই ৷ 
আব্দুর রহীম ভাই ! 
কলন ভাই ! 

এবং পরের ব্যচের -
তানবীর ভাই , 
তাওহীত ভাই ,
কমল ভাই,
ওমর ফারুক ভাই ৷ 
মেহরাব হোসেন স্বপনীল ভাই ! 
ঝিকো রায়হান ভাই ! 

যাদেরকে আমি সবসময় একাধীকবার এটা-সেটা জিজ্ঞেস করে বিরক্ত করতাম ৷ কারণ css , navigation, slider cod গুলো একটু কম বুঝতাম তাই! তবে কেউ বিরক্ত হতোনা ৷ সবাই খুবই হেল্পফুল ছিলো ৷ সবাইকেই অনেক অনেক মিস করব৷ এদের মতো ভালো ক্লাসমেটদেরকে, শিক্ষা জীবন থেকে অনেক ক্লাসমেট হারিয়েছি ৷

 তবে আমাদের তৃতীয় এবং চতুর্থ ব্যচের সবাই খুবই মেধাবী এবং ভালো students. ও সবাই পরস্পর হেল্পফুল ৷ আর সবাই আমাকে মামা -মামা বলে অনেক মজা করে ডাকত ৷ কারণ , স্যারদের ভাগিনা ছিলাম আমি সেই সুবাধে ৷ 

আর যে যে দৃষ্টিতেই দেখুকনা কেন , আমি কখনও , কারও প্রতি মাইন করিনি ৷ কয়েকটা মাস , এই সাময়িক স্বল্প সময়ে সবার ব্যবহারে সত্যিই আমি অনেক অনেক মুগ্ধ শিক্ষা জীবনের শেষ ক্লাসটা - ১-১১-২০১৮ হয়তো এটাই হবে ৷

 হয়তো, কারও সাথে আর দেখা বেশী হবেনা ! কিন্তু স্মৃতিগুলো সারাজীবন অমর হয়ে থাকবে ৷ ইন্টার মিডিয়েটে পড়ার সময় এরকম কয়েজনকে পেয়েছিলাম - মনির ভাই , জুয়েল ভাই , তাদেরকেও হারিয়েছি ! শুনেছি তারা খুবই ভালো জব করতেছেন ৷ অনেকেই কলেজের অধ্যাক্ষ্য ও প্রবাসক হয়েছেন ৷ আমার মতো হতভাগ্য কেউ হয়নি ৷ সবাইকেই হারালাম ৷

 Freelancing কোর্স থেকেও হয়তো মুরাদ স্যার , রাশেদ স্যার ও ইসমাঈল স্যার , এবং ওবাইদুল স্যার, যারা দিনরাত সারাক্ষণ আমাদের ভালো একজন দক্ষ profesonal freelancher বানাতে হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম করেছেন ৷ 

তাদেরকে কি ভাষা দিয়ে সাধুবাদ জানাতে হয় , সে আমার জানা নেই ৷ আমি কোনো সুপার স্টার লেখক নই ৷ তবু বলছি, তাদের এই ঋণ কখনই শোধ করার নয় ৷ সকল অবিধান তন্ন-তন্ন করে খুঁজেও , এই মহান অভিভাবকদেরকে সাধুবাদ জানানোর ভাষা খুঁজে পেলুমনা ৷ তবে হয়তো আমার এই শিক্ষা জীবেনর শেষ কোর্সের শিক্ষাগুরুগণ সবাই ইতিহাসে চির অমর থাকবেন ৷ 
একদিন হঠাত্‌ এভাবে সবাইকে পর করে আল্লাহ্‌র ডাকে সারা দিয়ে সবাইকেই চলে যেতে হবে ৷ দুনিয়ার মোহ এসবই হচ্ছে মায়ার বন্ধন বৈ আর কী ? 
লেখকের লেখা আরও পড়ুনঃ 

শুক্রবার, ১২ অক্টোবর, ২০১৮

যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ লেখক নাঈম হোসেন

  যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ  লেখক নাঈম হোসেন  একজন মুসলমান অপর আরেকজন মুসলমানের ভাই৷ মহান আল্লাহ তাআলা ...