বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮

কবিতা তুমি বঙ্গবন্ধু তুমি বঙ্গবীর লেখক নাঈম হোসেন

 তুমি বঙ্গবন্ধু তুমি বঙ্গবীর 

      নাঈম হোসেন 

তুমি অগণন মানুষের নয়নের মণি  ! 
তুমি স্বর্ণের চেয়েও খাঁটি সোনা, হীরক খনি।
তুমি বঙ্গবন্ধু ! তুমি বঙ্গবীর ! 
তুমি সাহসী , তুমি রণবীর৷ 
তুমি-ই বঙ্গবীর! 

তুমি শান্তিপ্রিয়, তুমি উদারমনা!
পর উপকারে অগ্রসর তুমি। 
হৃদয়ে আলপনা সদা সৎ কল্পনা।
চির উন্নত তোমার শির৷ 
তুমি ছিলে ন্যায়পরায়ণ ও দানবীর!
তুমি-ই  বঙ্গবীর৷  

১৭ মার্চ ১৯২০  ইংরাজী সনে ,
জনবন্ধু হয়ে, টুঙ্গিপাড়ার শেখ বংশে জন্ম তোমার৷ 
১৫ আগষ্ট ১৯৭৫ ইংরাজী সনে , 
সকল স্বপ্ন তোমার , 
ভেঙে হলো চুরমার৷ 

গোটা বাঙালির মাঝে হঠাৎ একি এল ত্রাস?
শোকাগ্নিতে পুরো বাঙালী জাতি হলো হতাশ!
হলো উচাটন ! 
শোক কান্নায় ভিজেছে বুক, ভেঙেছে সহস্র মন।
হঠাৎ যেন হয়েছে রক্তবৃষ্টি, ভয়ে সবার হয়েছে শিহরণ। 

বাংলার আকাশ হলো অমানিশা আঁধার৷ 
এই বাংলার মাটি ও মানুষের জন্য তুমি সহ্য করেছ , 
স্বৈর-শাসকদের বিচিত্র অত্যাচার৷ 
অন‍্যায়-অনিয়ম রুখতে তুমি বারংবার লড়েছ,
তোমাকে সহ্য করতে পারেনি তাই স্বৈরচারগণ। 

তাই ওরা তোমাকে নিয়ে খেলল রক্তের হোলি! 
ন্যায়-সমরে তোমাকে হতে হলো অসময়ে বলি।
নির্মম পীড়নে ওরা তোমাকে করেছে শহীদ৷ 
বাংলার বুকে অসময়ে নেমে এল জাতীয় শোকগীত ৷ 
একাত্তরের ঘাতকদের রক্ষা নাই৷ 
আমরা ওদের সবার ফাঁসি চাই-ই-চাই ৷ 

দীর্ঘ ৫৪ বছরের জীবদ্দশায়,
একটি যুগ তুমি করেছ কারাবাস৷ 
তোমার ভক্তরা চেয়ে থাকত, মুক্তির অপেক্ষায়।
ছকবন্দী জীবন থেকে ফিরে এসে তুমি, 
কবে  দিবে স্বাধীন আবাস।
তুমি সংযমী
অন্যায়ের কাছে কভু করনি আপোষ!
তোমার ন‍্যায় বিচারে বাংলার মানুষ ছিল সন্তোষ। 

তুমি ছিলে বীর লড়াকু সৈনিক!
তুমি ছিলে আপোশহীন ও নিয়মতান্ত্রিক! 
তুমি ছিলে গণতান্ত্রিক! 
তুমি ছিলে সমাজতান্ত্রিক! 
তুমি করেছ আজীবন , 
শান্তির আন্দোলন৷ 

বারংবার বলেছ, আমরা যুদ্ধ চাইনা,
আমরা রক্ত চাইনা।
আমরা শান্তি চাই, শান্তি চাই!
এই ছিল তোমার স্লোগান৷ 
সারা বাংলার মানুষ তাই,
তোমাকে করেছে শ্রদ্ধা, দিয়েছে সম্মান। 

তুমি ছিলে বাঙালী জাতির জনক! 
তুমি ছিলে শান্তির প্রতীক! 
তুমি ছিলে পথপ্রদর্শক! 
তুমি ছিলে সুশাসক!
তুমি ছিলে স্পষ্টবাদী, তুমি আসক!
তুমি ছিলে বিক্ষুব্ধ জনতার বাসক। 

গোটা বাঙালী জাতিকে তুমি আজীবন দিয়েছ, 
সঠিক পথের দিশা৷ 
অন্যায়কারীকে তুমি শাসিয়েছ,
মুচকি হাসিতে দিয়ে ভালোবাসা।
তুমি গোটা বাঙালিকে নবীন স্বপ্ন দেখিয়েছ,
তুমি শান্তি ছড়ানো এক স্বপ্নিল আশা৷  

৭-ই' মার্চ রেসকোর্স ময়দান,
সেই স্বাধীনতার ভাষণ!
আজও কোটি তরুণ-তরুণীদের হৃদয় , প্রবর্তনা জাগায় ৷ 

আজও বিজনে , 
যখনই বসি ধ্যানে৷ 
তখনই স্ব-কর্ণে শুনি, 
৭-ই'মার্চের সেই স্বাধীনতার বিপ্লবী ধ্বনি৷ 

সত্যি-সত্যিই তুমি অদম্য, তুমি সাহসী!
তুমিই বঙ্গবীর! 
তুমি গোটা বাঙালির হিতৈষী!
একটি স্বাধীন পতাকা পেতে তুমি সতত ছিলে অধীর।
তোমার ডাকে সারা দিয়ে স্বাধীন হলো এ বাংলার।
এ স্বাধীনতা শত যুগের সাধনা তোমার। 

ওহে কালজয়ী মুজিব!
ওহে লৌহ মানব!
তোমার স্বপ্নের লাল সবুজের পতাকা,
আজ বিশ্বে পেয়েছে মান।
স্বাধীন বাংলা রক্ষা করিতে মেরেকা,
করেছি পণ, জীবন করিব দান । 

তোমার বাবা হয়ে ধন্য শেখ লুৎফর রহমান৷ 
মা হয়ে ধন্য সায়েরা খাতুন৷ 
তুমি পরাধীন বাঙালী জাতির মুক্তিদাতা৷ 
ধন্য তুমি , ধন্য তোমার পুরো পরিবার , ধন্য তোমার পিতা-মাতা৷ 

টুঙ্গিপাড়ার সেই খোকা থেকে, তুমি
আজও বঙ্গবন্ধু৷
রাজনীতিতে রেখে গেলে তুমি ,
আজীবন স্মরণীয় অবদান ৷ 
প্রতিপদে তোমার পদাঙ্ক আওয়ামীলীগ করছে অনুসরণ৷ 
তোমার দেখানো পথে হেঁটেই  আওয়ামীলীগ হলো জনবন্ধু ৷ 

১৯৪৭ সালের ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা লাভ করেই,
জনসেবায় তুমি দিলে উদারমন ৷
১৯৪৮ সালে এসেই, 
ছাত্রলীগ করলে গঠন ৷ 

১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন,
মুসলিমলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদের সম্মান , 
তুমি করলে অর্জন ৷ 
১৯৫২ তে এসে করলে তুমি ভাষা আন্দোলন৷

১৯৫৪ তে যুক্তফ্রন্ট সরকারের মন্ত্রীসভার,
তুমিই পেলে স্হান৷ 
১৯৫৮ তে করলে তুমি আইয়ুব খানের,
সামরিক আন্দোলন৷ 

বাষট্টিতে করলে তুমি শিক্ষা আন্দোলন৷ 
১৯৬৬ সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারি সবাই মিলে,
আমাদের বাঁচার দাবি ৬ দফা ঘোষণা দিলে৷ 
১৯৬৯ সালে করলে গণ-অভ্যুত্থান ৷ 
অবশেষে কারামুক্ত হলে,
বঙ্গবন্ধু চির-উপাধির পেলে সম্মান ৷ 

১৯৭০ সালে আওয়ামীলীগ বিজয়ী হলে, 
সেখানেও তোমার অবদান৷ 
পেলে তুমি মহাসম্মান ৷ 
একাত্তরের মার্চে তুমি করলে , 
নজির-বিহীন অসহযোগ-আন্দোলন৷ 

৭- ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যান,
জনসমুদ্রের সামনে তুমি দিলে ,
ঐতিহাসিক এক ভাষণ৷ 
এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম৷ 
এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম৷ 
অবশেষে জয় বাংলার দিলে স্লোগান। 

সেই ভাষণ শুনি
বাংলার মানুষ সাড়া দেয় তখনি।
লক্ষ জনতা হলো রণোদ্যত!
গোটা বাঙালী জাতি হলো রণমত্ত! 

অবশেষে ২৬ শে মার্চ শুরু হলো মুক্তিযুদ্ধ ৷ 
পাক বাহিনীর সঙ্গে বাঙালী জাতির হলো লড়াই , হলো তুমুল যুদ্ধ ৷ 
দীর্ঘ ন'মাস পরে বাঙালী জাতি পেল স্বাধীনতা৷ 
আজও গোটা বাঙালী স্বাধীন ভাষায়-ই বলছি সেই কথা৷ 

আরও পেলে কত সম্মাননা, পদক পুরস্কার 
১৯৭৩ জুলিও ক‍্যুরি শান্তি পুরস্কার 
২০০৩ স্বাধীনতা পুরস্কার 
২০২০ গান্ধী শান্তি পুরস্কার 

১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট , এক কালরাতে, 
স্বাধীনতা অর্জনের সাড়ে তিন বছরের মধ্য নিজ বাসভবন , 
একাত্তরের ঘাতকের হাতে, 
তোমার হল জীবনাবসান ৷ 
স্বপ্নের সোনার বাংলা গঠন, 
তোমার আর হলোনা পূরণ। 
আল্লাহ্‌ তোমায় নসীব করুক বেহেশত্ দান ৷ 

তুমি স্বদেশ প্রেমিক ৷ 
তুমি রণসৈনিক ৷ 
তুমি জনবন্ধু ৷ 
তুমি বঙ্গবন্ধু৷ 
তুমি সাহসী তুমি-ই বঙ্গবীর৷
আজীবন স্বাধীন বাংলার তুমি শ্রেষ্ঠ আমীর৷ 
  সমাপ্ত৷৷ 
রচনাকালঃ ১৫ আগষ্ট ২০১২ ইং

বিশেষ দ্রষ্টব্য : কপিরাইট সংরক্ষিত

কোন মন্তব্য নেই:

যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ লেখক নাঈম হোসেন

  যে আমল করলে রহমত নাজিল হয় এবং যে কাজ করতে আল্লাহ বারণ করেছেনঃ  লেখক নাঈম হোসেন  একজন মুসলমান অপর আরেকজন মুসলমানের ভাই৷ মহান আল্লাহ তাআলা ...